রাউটার বাছার আগে তিনটি সংখ্যা হাতে রাখুন: আপনার লাইনের গতি, ঘরের সংখ্যা, আর তারে কয়টি ডিভাইস লাগাবেন। এই তিনটি জানা থাকলে বাকি সিদ্ধান্ত অনেকটা নিজে থেকেই হয়ে যায়। নিচে প্রশ্নগুলো ক্রমে সাজানো, প্রতিটির উত্তর আপনাকে চার ধরনের রাউটারের একটির দিকে নিয়ে যাবে।
প্রথমে দেখুন: আপনার লাইন কত Mbps?
আপনার প্যাকেজ যদি 100 Mbps বা তার কম হয়, রাউটারের পোর্ট 10/100 হলেও সমস্যা নেই, কারণ তারের পথে 100 Mbps পর্যন্তই যাবে। লাইন 100 Mbps-এর বেশি হলে WAN পোর্ট গিগাবিট (10/100/1000) হওয়া দরকার। নইলে বাইরে থেকে আসা গতি পোর্টেই আটকে যায়। TP-Link-এর পাতা অনুযায়ী Archer C54-এর সব পোর্ট 10/100 Mbps, আর Archer C64-এর পাঁচটি পোর্টই গিগাবিট। দুটির পার্থক্য আলাদা করে লেখা আছে C54 বনাম C64-এর পোস্টে।
একটি সহজ হিসাব: লাইন 200 Mbps, রাউটারের WAN পোর্ট 100 Mbps। তারে কখনও 100-এর ওপরে যাবে না, Wi-Fi-র গতি যা-ই লেখা থাকুক। এটা পোর্টের সীমা, রাউটারের দোষ নয়।
তারপর: ঘরের বিন্যাস কেমন?
একটি বা দুটি ঘরের ছোট ফ্ল্যাটে একটি ডুয়াল-ব্যান্ড রাউটার সাধারণত যথেষ্ট। তিন-চার ঘর বা কংক্রিটের দেয়ালের বাসায় সিগন্যাল দুর্বল হতে পারে। প্রস্তুতকারকের দেওয়া কভারেজের সংখ্যা খোলা জায়গার হিসাব, ফ্ল্যাটে তা মেলে না। এ নিয়ে আলাদা লেখা আছে: রাউটারের কভারেজের দাবি ফ্ল্যাটে কতটা সত্যি। ঘরভিত্তিক সিগন্যাল মেপে দেখাও কাজে দেয়।
দুটি ঘরের ওপারেও Wi-Fi না পৌঁছালে নতুন রাউটারের আগে দ্বিতীয় ডিভাইসের পথ দেখুন। Extender একটা বা দুটো দুর্বল জায়গার জন্য সস্তা সমাধান, আর mesh কয়েকটি ঘর বা একাধিক তলার জন্য। বিস্তারিত mesh না দ্বিতীয় রাউটার লেখায়।
শেষে: তারে কয়টি ডিভাইস?
ডেস্কটপ, স্মার্ট টিভি, ক্যামেরার রেকর্ডার বা প্রিন্টার তারে লাগালে LAN পোর্ট গুনুন। নিচের রাউটারগুলোর বেশিরভাগে তিন বা চারটি LAN পোর্ট আছে। এর বেশি লাগলে একটি ছোট সুইচ যোগ করা যায়। বাসার ভেতরে বড় ফাইল নেওয়া-দেওয়া করলে LAN পোর্টের গতিও দেখুন, কারণ 10/100 পোর্টে 100 Mbps পর্যন্তই যায়। ছোট দোকান বা অফিসের হিসাব আলাদা, সে বিষয়ে ছোট অফিস ও দোকানের রাউটার লেখাটি দেখুন।

উত্তর মিলিয়ে চার ধরন
| ধরন | কেমন বাসার জন্য মানায় | স্পেকের মূল লাইন ও মডেল |
|---|---|---|
| ৩০০ Mbps একক-ব্যান্ড | ছোট প্যাকেজ, কম ডিভাইস, সাধারণ ব্রাউজিং | শুধু 2.4 GHz, 100 Mbps পোর্ট |
| AC1200, 100 Mbps পোর্ট | প্যাকেজ 100 Mbps পর্যন্ত, ফোন-ল্যাপটপ বেশি | 2.4 ও 5 GHz, Archer C54, Tenda AC7 |
| AC গিগাবিট পোর্ট | লাইন 100 Mbps-এর ওপরে, তারে ডিভাইস বেশি | 5 GHz ও গিগাবিট পোর্ট, Archer C64, Ruijie RG-EW1300G |
| Wi-Fi 6 | একসঙ্গে অনেক ডিভাইস, নতুন ফোন-ল্যাপটপ | 802.11ax, Archer AX12 |
ধরন ধরে মডেলের তুলনা আলাদা লেখায় আছে: ৩০০ Mbps রাউটার, AC1200 বাজেট রাউটার, Tenda AC7 ও Archer C54, Archer C64 ও Ruijie EW1300G, আর তিনটি Wi-Fi 6 রাউটার।
দুটি AC1200 মডেলের আলাদা রিভিউ আছে: Tenda AC7 ও TP-Link Archer C54।
নামের সংখ্যায় বিভ্রান্ত না হওয়ার উপায়
AC1200 বা AX1500-এর সংখ্যা দুই ব্যান্ডের গতির যোগফল, কোনো একটি ডিভাইস সেই গতি পায় না। যেমন Archer AX12-এর AX1500 নামটি এভাবেই এসেছে। যোগ করার নিয়ম নিয়ে আলাদা ব্যাখ্যা: N300, AC1200, AX1500 আসলে কী বোঝায়। Wi-Fi 6 কী বদলায়, তা পাবেন Archer AX12-এর রিভিউয়ে। গেমিংয়ে ping নিয়ে চিন্তা থাকলে ping কমানোর ধাপগুলো দেখুন।
তিনটি ঘরের উদাহরণ
উদাহরণ ক: দুই রুমের ফ্ল্যাট, প্যাকেজ 50 Mbps। ফোন আর একটি স্মার্ট টিভি। এখানে গতির চেয়ে ব্যান্ডের কথা আগে আসে। 5 GHz আছে এমন একটি AC রাউটার ভিড়ের ভবনে 2.4 GHz-এর জট এড়াতে সাহায্য করে। গিগাবিট পোর্টের দরকার নেই, কারণ লাইনই 100 Mbps-এর নিচে।
উদাহরণ খ: তিন রুমের ফ্ল্যাট, প্যাকেজ 200 Mbps, ডেস্কটপ তারে। এখানে WAN পোর্ট গিগাবিট না হলে লাইনের অর্ধেক গতিও রাউটার পার হতে পারবে না। গিগাবিট পোর্টের AC বা Wi-Fi 6 মডেল দেখুন। দেয়ালের কারণে শোবার ঘরে সিগন্যাল দুর্বল হলে একটি তার টেনে দ্বিতীয় Access Point বসানোর কথা ভাবুন।
উদাহরণ গ: বাসায় আট-দশটি স্মার্ট ডিভাইস, ফোন, ল্যাপটপ আর ক্যামেরা। ডিভাইসের সংখ্যা বেশি হলে Wi-Fi 6-এর OFDMA কাজে লাগে, তবে তা তখনই, যখন ডিভাইসগুলোও Wi-Fi 6 জানে। ডিভাইস পুরোনো হলে আগে ব্যান্ড ভাগ করে (কিছু 2.4, কিছু 5 GHz) চালান, তারপর আপগ্রেডের কথা ভাবুন।
বাজেট ও কেনার আগের ভুল
প্রথম ভুল: বাক্সের বড় সংখ্যা দেখে কেনা। 1200 বা 3000 Mbps যোগফল, একটি ফোনের গতি নয়। দ্বিতীয় ভুল: পোর্টের গতি না দেখা। তৃতীয় ভুল: ISP-র দেওয়া ONU-কেই রাউটার ভেবে নেওয়া। অনেক ONU-র Wi-Fi সীমিত, তাই আলাদা রাউটার লাগে কি না আগে ঠিক করুন। চতুর্থ ভুল: নতুন রাউটারও পুরোনোর মতো কোণায় রেখে দেওয়া। রাউটার ঘরের মাঝামাঝি, খোলা জায়গায় রাখলে সাধারণত ভালো ফল আসে।
বাজেটের বেলায় একটি নিয়ম কাজে দেয়: যে সুবিধা আজ আপনার লাইন বা ডিভাইস কাজে লাগাবে না, তার জন্য বাড়তি খরচ করার আগে দুবার ভাবুন। আবার আগামী এক-দুই বছরে প্যাকেজ বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলে গিগাবিট পোর্ট এখনই ধরে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। প্রথমে ওপরের তিন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ধরন বাছুন, তারপর বাজেট অনুযায়ী সেই ধরনের ভেতরে মডেল দেখুন। উল্টো পথে, অর্থাৎ আগে দাম দেখে শুরু করলে, গিগাবিট পোর্ট বা 5 GHz-এর মতো দরকারি জিনিস বাদ পড়তে পারে।
দুটি মডেলে দ্বিধা থাকলে মডেলের নাম নিয়ে UNU Technology-কে 01340751013 নম্বরে জিজ্ঞেস করতে পারেন।
সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
রাউটার কেনার আগে ISP-র কাছে কী জেনে নেওয়া দরকার?
আপনার প্যাকেজ কত Mbps, আর লাইন PPPoE নাকি Dynamic IP, এই দুটো জেনে নিন। এতে রাউটারের পোর্টের গতি ও সেটআপ বোঝা সহজ হয়।
দুটো রাউটারের Mbps-এর সংখ্যা এক হলে কীসে পার্থক্য হয়?
প্রায়ই পোর্টের গতি (100 Mbps নাকি 1 Gbps), অ্যান্টেনার সংখ্যা, Wi-Fi-র প্রজন্ম আর সফটওয়্যারের সুবিধায়। স্পেক টেবিলে এই লাইনগুলো মিলিয়ে দেখুন।
পুরোনো ফোন বা ল্যাপটপে Wi-Fi 6 রাউটারের সুবিধা মিলবে?
Wi-Fi 6-এর কিছু সুবিধা, যেমন OFDMA, কাজে লাগতে ডিভাইসেরও Wi-Fi 6 সমর্থন লাগে। পুরোনো ডিভাইস সাধারণ গতিতেই চলবে।
একটি রাউটারই কি পুরো ফ্ল্যাট ঢেকে দেবে?
দেয়ালের ধরন ও ঘরের বিন্যাসের ওপর নির্ভর করে। প্রস্তুতকারকের কভারেজের সংখ্যা খোলা জায়গার হিসাব, তাই কয়েকটি ঘর পার হলে দ্বিতীয় ডিভাইসের কথা ভাবতে হতে পারে।
