Archer C54 আর Archer C64 দেখতে প্রায় একই রকম, দুটোই AC1200, আর লেখার সময় দামের তফাত ৮২০ টাকা। তাহলে কোনটি নেবেন? উত্তরটা রাউটারে নয়, আপনার ইন্টারনেট লাইনের গতিতে। লাইন 100 Mbps-এর নিচে হলে C54 চলবে; তার ওপরে হলে C64-এর গিগাবিট পোর্ট কাজে আসবে।
আগে দেখুন: আপনার লাইন কত Mbps
দোকানে গিয়ে অনেকেই আগে অ্যান্টেনা গোনেন। কিন্তু সিদ্ধান্তের মূল বিষয় ISP-র দেওয়া প্যাকেজ। আপনার বিলে বা ISP-র অ্যাপে দেখুন কত Mbps লেখা আছে। সংখ্যাটা মনে রেখে নিচের তুলনা পড়ুন।
Archer C54 ও Archer C64: পাশাপাশি স্পেক
| বিষয় | Archer C54 | Archer C64 |
|---|---|---|
| Wi-Fi স্ট্যান্ডার্ড | Wi-Fi 5 | Wi-Fi 5 |
| 5 GHz রেট | 867 Mbps | 867 Mbps |
| 2.4 GHz রেট | 300 Mbps | TP-Link-এর পাতায় 400 Mbps (সাইটের স্পেকে 300) |
| WAN পোর্ট | 1টি, 10/100 Mbps | 1টি, Gigabit |
| LAN পোর্ট | 4টি, 10/100 Mbps | 4টি, Gigabit |
| অ্যান্টেনা | 4টি ফিক্সড | 4টি ফিক্সড |
| MU-MIMO | এই লেখায় নিশ্চিত করা হয়নি | আছে (TP-Link-এর পাতা অনুযায়ী) |
| WPA3 | স্পেকে WPA/WPA2 | WPA3-SAE সাপোর্ট |
| প্রসেসর | উল্লেখ নেই | 1.2 GHz CPU |
2.4 GHz-এর 300 আর 400 Mbps নিয়ে একটু সতর্ক থাকুন। সাইটের স্পেকে 300 লেখা, আর প্রস্তুতকারকের পাতায় 400। হার্ডওয়্যার ভার্সন অনুযায়ী এ ধরনের পার্থক্য হতে পারে, তাই বক্সে ভার্সন দেখে নেবেন। বাস্তবে ফোন আর ল্যাপটপে এই পার্থক্য আপনি টের পাবেন না।
গিগাবিট পোর্ট মানে আসলে কী
10/100 পোর্ট সর্বোচ্চ প্রায় 100 Mbps পর্যন্ত ডেটা পাঠাতে পারে। Gigabit পোর্ট পারে 1000 Mbps পর্যন্ত। এটা অনেকটা সরু গলি আর চওড়া রাস্তার মতো। গাড়ি (আপনার ইন্টারনেট) যত দ্রুতই আসুক, গলিতে ঢুকলে গতি কমে যায়।
খেয়াল করার বিষয় হলো, ISP-র ONU থেকে রাউটারের WAN পোর্টে আসার সময়ই প্রথম বাধা তৈরি হয়। WAN পোর্ট 10/100 হলে লাইন যতই বড় হোক, রাউটারের ভেতর ঢোকার আগেই গতি সীমিত হয়ে যাবে।
লাইন অনুযায়ী কোনটি নেবেন
- লাইন 30-50 Mbps: C54-ই যথেষ্ট। বাড়তি টাকা খরচের তেমন কারণ নেই।
- লাইন 80-100 Mbps: সীমারেখার কাছাকাছি। এখন চললেও ভবিষ্যতে প্যাকেজ বাড়ালে বদলাতে হতে পারে। দুই-এক বছরের মধ্যে আপগ্রেডের ইচ্ছা থাকলে C64 নেওয়াই নিরাপদ।
- লাইন 150 Mbps বা তার বেশি: C64 বা তার চেয়ে ওপরের মডেল দেখুন। C54 নিলে প্যাকেজের পুরো গতি কাজে লাগবে না।
তারে ডেস্কটপ, স্মার্ট টিভি বা গেমিং কনসোল যুক্ত থাকলে গিগাবিট পোর্টের সুবিধা আরও বেশি টের পাবেন।
ভবিষ্যতের কথা ভেবে হিসাব করুন
রাউটার একবার কিনলে সাধারণত কয়েক বছর চলে, কিন্তু ইন্টারনেট প্যাকেজ বদলায় অনেক দ্রুত। আজ 50 Mbps লাইন থাকলেও বছর দুয়েক পরে বাসায় ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইন ক্লাস আর স্মার্ট টিভি বাড়লে আপনি হয়তো বড় প্যাকেজ নেবেন।
তখন C54 থাকলে নতুন করে রাউটার কিনতে হবে। আর C64 থাকলে সেটা আরও কিছুদিন চালিয়ে নেওয়া যাবে। আবার উল্টো কথাও সত্য: সামনে প্যাকেজ বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা না থাকলে আগেভাগে বাড়তি টাকা খরচের মানে নেই।
তারে নাকি Wi-Fi-তে: পার্থক্য কোথায় ধরা পড়বে
Wi-Fi-তে ফোন বা ল্যাপটপ চালালে সাধারণত Wi-Fi-র নিজস্ব সীমাই আগে আসে। সেখানে দুই রাউটারের পার্থক্য কম। কিন্তু ডেস্কটপ, স্মার্ট টিভি বা কনসোল তারে যুক্ত করলে পোর্টের গতিই আসল নির্ধারক।
ধরুন আপনি রাতে বড় একটি গেম বা সফটওয়্যার ডাউনলোড করেন। লাইন বড় হলে C64-এর তারে সেই ডাউনলোড দ্রুত হবে, আর C54-এর তারে গতি প্রায় 100 Mbps-এ আটকে থাকবে। পার্থক্যটা সবচেয়ে স্পষ্ট হয় এখানেই।
সেটআপে দুটোই প্রায় এক
দুটি রাউটারই TP-Link, তাই সেটআপের ধাপ প্রায় একই। ONU থেকে WAN পোর্টে তার, তারপর অ্যাডমিন পাতায় ISP-র দেওয়া তথ্য বসানো। কানেকশনের ধরন (PPPoE বা ডায়নামিক IP) আগে থেকে জেনে রাখলে পাঁচ-দশ মিনিটেই কাজ শেষ। ONU-র নিজের Wi-Fi থাকলে সেটি বন্ধ রাখা যাবে কি না, ISP-র সাপোর্টকে জিজ্ঞেস করুন।
একটি ভুল ধারণা
অনেকে ভাবেন গিগাবিট পোর্ট থাকলে Wi-Fi-ও অনেক দ্রুত হয়ে যায়। আসলে তা নয়। পোর্ট তারের গতি ঠিক করে, আর Wi-Fi-র গতি নির্ভর করে ওয়্যারলেস রেট ও দূরত্বের ওপর। তাই C64 কিনে ফোনে হঠাৎ দ্বিগুণ গতি আশা করবেন না।
যেখানে দুটোই সমান
5 GHz-এর রেট, অ্যান্টেনার সংখ্যা আর Wi-Fi 5 স্ট্যান্ডার্ড দুটোতেই এক। তাই দেয়ালের ওপারে সিগন্যালের পাল্লায় বড় পার্থক্য আশা করবেন না। কংক্রিটের ফ্ল্যাটে দূরত্ব বেশি হলে বা অনেক ঘরে সিগন্যাল পৌঁছানোর সমস্যা থাকলে দুটোর কোনোটাই একা যথেষ্ট নাও হতে পারে। তখন একাধিক ঘরের ফ্ল্যাটের জন্য Ruijie রাউটারের রিভিউ দেখতে পারেন।
কার জন্য কোনটি, কার জন্য নয়
C54 কার জন্য
- ছোট ফ্ল্যাট, লাইন 100 Mbps-এর নিচে, তারে যুক্ত ডিভাইস কম।
- যিনি কম বাজেটে ডুয়াল-ব্যান্ডে যেতে চান।
C54 কার জন্য নয়
- যাঁর লাইন বড় বা ভবিষ্যতে বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে।
- যিনি তারের কানেকশনে নিয়মিত বড় ফাইল আদান-প্রদান করেন।
C64 কার জন্য
- যাঁর লাইন 100 Mbps বা বেশি, কিংবা শিগগির বাড়াবেন।
- যিনি তারে একাধিক ডিভাইস যুক্ত করবেন এবং MU-MIMO ও WPA3-র মতো সুবিধা চান।
C64 কার জন্য নয়
- যাঁর লাইন ছোট এবং বাজেট খুব সীমিত। বাড়তি টাকা তাঁর কাজে আসবে না।
- যিনি Wi-Fi 6 চান। সেটা আলাদা ক্যাটাগরি, বিস্তারিত আছে Wi-Fi 6 রাউটার নিয়ে গাইডে।

দুটি রাউটারের পাতা
Archer C64-এর পাতা: TP-Link Archer C64 AC1200 Dual-Band Gigabit Wi-Fi Router। Archer C54-এর পাতা: TP-Link Archer C54 AC1200 Dual Band Wi-Fi Router।
লেখার সময় (নভেম্বর ২০২৬) UNU Technology-তে দাম C54 ৳২,২০০ ও C64 ৳৩,০২০; অর্ডারের আগে পণ্যের পাতায় বর্তমান দাম দেখে নিন। ওয়ারেন্টির শর্ত অর্ডারের আগে জেনে নিন।
শুধু C54-এর একক রিভিউ পড়তে চাইলে TP-Link Archer C54 নিয়ে বিস্তারিত রিভিউ আছে।
দ্বিধায় থাকলে ISP-র প্যাকেজ আর বাসার ডিভাইসের সংখ্যা জানিয়ে আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
অর্ডার ও যোগাযোগ
পণ্য নিয়ে কিছু জানার থাকলে WhatsApp বা কল করুন 01340751013 নম্বরে। সরাসরি দেখে নিতে চাইলে শোরুম: পুরানা পল্টন, ঢাকা।
সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
C54 আর C64-এর মূল পার্থক্য কী?
C54-এর পোর্ট 10/100 Mbps, C64-এর পোর্ট Gigabit। TP-Link-এর পাতা অনুযায়ী C64-এ MU-MIMO ও WPA3 সাপোর্ট আছে।
দুটির Wi-Fi গতি কি একই?
দুটিরই 5 GHz রেট 867 Mbps। 2.4 GHz-এ C54-এর 300 Mbps, C64-এর রেট প্রস্তুতকারকের পাতায় 400 Mbps।
কম গতির লাইনে C64 নিলে কি লাভ?
লাইন ছোট হলে গিগাবিট পোর্টের সুবিধা তেমন টের পাবেন না। তবে ভবিষ্যতে প্যাকেজ বাড়ালে কাজে আসবে।
কোনটিতে বেশি দূর পর্যন্ত সিগন্যাল যাবে?
দুটোতেই 4টি ফিক্সড অ্যান্টেনা ও একই 5 GHz রেট, তাই দূরত্বে বড় পার্থক্য আশা করা ঠিক নয়। দেয়াল ও বাসার গড়নের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে।
