বাক্সের ওপর AC1200 লেখা দেখে 1200 Mbps গতি আশা করবেন না। ওই সংখ্যাটি রাউটারের দুটি Wi-Fi ব্যান্ডের সর্বোচ্চ রেট যোগ করে আসা একটি মোটামুটি অঙ্ক। বিষয়টি একবার বুঝে নিলে যেকোনো রাউটারের নাম পড়েই তার শ্রেণি বোঝা যায়। চলুন চারটি মডেল ধরে হিসাব করে দেখি।

নামের দুই অংশ: অক্ষর ও সংখ্যা

অক্ষর বলে কোন প্রজন্মের Wi-Fi। N হলো 802.11n, যাকে এখন Wi-Fi 4 বলা হয়। AC হলো 802.11ac, মানে Wi-Fi 5। AX হলো 802.11ax, মানে Wi-Fi 6। সংখ্যা বলে দুই ব্যান্ডের সর্বোচ্চ রেটের মোটামুটি যোগফল, Mbps এককে। এখানে "সর্বোচ্চ রেট" কথাটির মানে রাউটার ও ডিভাইসের মধ্যে বাতাসে তাত্ত্বিক সর্বোচ্চ গতি, যা বাস্তবে সব সময় মেলে না।

চারটি মডেলে হিসাব কষা

মডেল2.4 GHz5 GHzযোগফলনাম
Cudy WR300S300 Mbpsনেই300N300
IMOU HR12F300 Mbps867 Mbps1167AC1200
TP-Link Archer AX12300 Mbps1201 Mbps1501AX1500
Ruijie RG-EW3000GX573 Mbps2402 Mbps29753000M (AX3000 শ্রেণি)

সংখ্যাগুলো প্রস্তুতকারকের পাতা থেকে নেওয়া: TP-Link-এর Archer AX12 পাতায় 1201 ও 300, Ruijie EW3000GX-এ 573 ও 2402, আর Cudy WR300S-এ Wi-Fi 4 ও 300 Mbps। IMOU HR12F-এর 300 ও 867 UNU-র স্পেক থেকে। দেখুন, 300 + 867 আসলে 1167, কিন্তু নাম রাখা হয় AC1200 গোল করে। 1201 + 300 হলো 1501, নাম AX1500। নাম কোনো ক্ষেত্রেই নিখুঁত হিসাব নয়, এটি বিপণনের গোল করা শ্রেণি।

যোগফল মানে কিন্তু একটি ডিভাইসের গতি নয়

একটি ফোন বা ল্যাপটপ একবারে একটি ব্যান্ডেই যুক্ত হয়। তাই AC1200-এর 1167 যোগফল আসলে দুই ব্যান্ডের মোট ক্ষমতা, কোনো একটি ডিভাইস কখনও সেটি পায় না। আপনার ফোন 5 GHz-এ যুক্ত থাকলে তার সর্বোচ্চ রেট 867 পর্যন্ত, আর 2.4 GHz-এ থাকলে 300 পর্যন্ত। তার ওপর ডিভাইসের নিজের Wi-Fi কার্ড কত স্ট্রিম সমর্থন করে তার ওপরও এই রেট নির্ভর করে। অনেক ফোনে এটি রাউটারের চেয়ে কম।

নামের সংখ্যা বেশি দেখে মনে হতে পারে সেই রাউটার ইন্টারনেটও বেশি দেবে। কিন্তু ইন্টারনেটের গতি ঠিক করে আপনার ISP-র প্যাকেজ। রাউটার শুধু সেই গতি ঘরের ভেতরে বিলি করে।

সংখ্যা ছাড়াও আরও তিনটি লাইন দেখুন

  • পোর্টের গতি। একই AC1200 নামের দুটি রাউটারের একটির পোর্ট 100 Mbps, অন্যটির গিগাবিট হতে পারে। লাইন 100 Mbps-এর বেশি হলে এই লাইন নামের সংখ্যার চেয়ে বেশি জরুরি।
  • Wi-Fi প্রজন্ম। AC নাকি AX। AX-এ OFDMA আছে, কিন্তু তা কাজে আসতে ডিভাইসেরও সমর্থন লাগে।
  • ব্যান্ডের সংখ্যা। N300-এর মতো নামে একটি ব্যান্ডই থাকে। 5 GHz দরকার হলে দুই ব্যান্ডের রেট আলাদা করে লেখা আছে কি না দেখুন।

যেমন Archer AX12-এ গিগাবিট WAN ও তিনটি গিগাবিট LAN লেখা, অন্যদিকে Ruijie EW1200-এর নিজস্ব পাতায় চারটি 100 Mbps পোর্ট। অর্থাৎ নামের সংখ্যা কাছাকাছি হলেও পোর্টে বড় তফাত থাকতে পারে।

চারটি রাউটারের নামের সংখ্যা দুই ব্যান্ডের রেট যোগ করে কীভাবে আসে তার ছক

নাম পড়ে কোন শ্রেণি, কার জন্য

  • N300: একক-ব্যান্ড, ছোট প্যাকেজ ও কম ডিভাইস। মডেলের তুলনা আছে 300 Mbps রাউটারের লেখায়।
  • AC1200: দুই ব্যান্ড, মাঝারি বাসা। তিনটির তুলনা দেখুন AC1200 বাজেট রাউটার লেখায়।
  • AX1500 ও তার ওপরে: Wi-Fi 6, বেশি ডিভাইস ও নতুন ফোন-ল্যাপটপ। Wi-Fi 6 নিজে কী করে তা আছে Archer AX12-এর রিভিউয়ে।

রেট আসে কোথা থেকে: স্ট্রিম ও চ্যানেল প্রস্থ

867 বা 300-এর মতো সংখ্যাগুলো আকাশ থেকে আসেনি। Cudy-র WR1200 2.0 পাতায় লেখা, 5 GHz-এ 867 Mbps হলো দুটি স্পেসিয়াল স্ট্রিমে, আর 2.4 GHz-এ 300 Mbps-ও দুটি স্ট্রিমে। চ্যানেল প্রস্থ 80 MHz পর্যন্ত গেলে 5 GHz-এ এই রেট মেলে। সহজ করে বললে, রাউটার ও ডিভাইস কতগুলো সমান্তরাল ধারা ব্যবহার করে আর পথ কত চওড়া, তার ওপর রেট নির্ভর করে। বেশিরভাগ ফোন এক বা দুই স্ট্রিম সমর্থন করে, তাই ফোন যে রেট পায় তা রাউটারের লেখা সর্বোচ্চের চেয়ে অনেকসময় কম। এক-স্ট্রিমের ডিভাইসে 5 GHz-এর রেট সাধারণত 867-এর অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে আসে।

AC1300 আর AX3000 নামও একই নিয়মে

Ruijie তাদের RG-EW1300G পাতায় 2.4 GHz-এ 400 ও 5 GHz-এ 867 Mbps লিখেছে, যোগফল 1267। একটি জায়গায় পাতা নিজেই 1267 লিখেছে, কিন্তু মডেলের নাম 1300M। এটি গোল করার আরেকটি উদাহরণ। আর EW3000GX-এ 573 ও 2402 মিলে 2975, যাকে বলা হয় 3000M। কখনও কখনও কোম্পানি যোগফল ছেড়ে বড় গোল সংখ্যা বসায়, তাই বাক্সের নামের সংখ্যার চেয়ে স্পেকে লেখা আলাদা আলাদা ব্যান্ডের রেট বেশি নির্ভরযোগ্য।

একটি বাস্তব তুলনা: নাম কাছাকাছি, মডেল আলাদা

Archer C54 একটি AC1200 রাউটার, আর সব পোর্ট 10/100 Mbps। আবার Archer AX12 AX1500 শ্রেণির, যার একটি গিগাবিট WAN ও তিনটি গিগাবিট LAN পোর্ট। নামের সংখ্যায় 1200 বনাম 1500 এক ধাপ ফারাক মনে হলেও আসল ফারাক দুটি: প্রজন্ম (Wi-Fi 5 বনাম Wi-Fi 6) আর পোর্টের গতি। দুটির পার্থক্য ভালোভাবে বুঝতে পোর্টের লাইনটি আগে পড়া দরকার।

  1. অক্ষর দেখে Wi-Fi প্রজন্ম বুঝুন: N, AC বা AX।
  2. সংখ্যাকে দুই ব্যান্ডের যোগফল ধরে নিন, কোনো একটির গতি নয়।
  3. স্পেকে দুই ব্যান্ডের রেট আলাদা করে খুঁজে পড়ুন।
  4. পোর্টের গতি ও আপনার ISP-র প্যাকেজ মিলিয়ে দেখুন।

মনে রাখবেন, এক-স্ট্রিম ডিভাইসের রেট নিয়ে এখানে যা বলা হলো তা সাধারণ 802.11ac হিসাবের মোটামুটি ধারণা, কোনো নির্দিষ্ট ফোনের মাপ নয়।

নামের সংখ্যা দেখে বিজ্ঞাপনের আকর্ষণে পড়বেন না। বাক্সে বা পণ্যের পাতায় দুই ব্যান্ডের রেট আলাদা করে খুঁজুন। ধরুন দুটি রাউটারের একটির নাম AC1200 আর অন্যটির AX1500: দ্বিতীয়টি Wi-Fi 6 বলে এগিয়ে মনে হলেও, আপনার সব ডিভাইস পুরোনো হলে তার সুবিধা মিলবে না। আবার প্রথমটির পোর্ট 100 Mbps হলে আপনার লাইন তার বেশি হওয়ায় সেটি বাধা হবে। অর্থাৎ নাম একটি শুরুর সূত্র মাত্র, সিদ্ধান্ত নেয় পুরো স্পেক।

সব ধরনের ছবি একসঙ্গে দেখতে রাউটার বাছার গাইড পড়ুন। কোনো মডেলের নামের সংখ্যা আর স্পেক না মিললে 01340751013 নম্বরে UNU Technology-এর সঙ্গে কথা বলুন।

সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

AC1200 রাউটারে 1200 Mbps ইন্টারনেট চালানো যাবে?

না। 1200 হলো দুই ব্যান্ডের রেটের মোটামুটি যোগফল। একটি ডিভাইস একবারে একটি ব্যান্ডে যুক্ত হয়, তাই সে 1200 পায় না। তাছাড়া এই শ্রেণির অনেক রাউটারের পোর্টই 100 Mbps।

AC আর AX-এর মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

AC হলো Wi-Fi 5 (802.11ac), AX হলো Wi-Fi 6 (802.11ax)। AX-এ OFDMA ইত্যাদি বাড়তি প্রযুক্তি থাকে, তবে ডিভাইসেরও Wi-Fi 6 সমর্থন লাগে।

সংখ্যা বেশি হলে কি রাউটার ভালো?

সবসময় নয়। সংখ্যা বেশি মানে সর্বোচ্চ রেট বেশি, কিন্তু পোর্টের গতি, অ্যান্টেনা, আপনার ডিভাইসের সমর্থন ও ঘরের গঠন একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।

N300-এর N কী?

N বোঝায় 802.11n, যাকে এখন Wi-Fi 4 বলা হয়। 300 হলো সর্বোচ্চ রেট Mbps-এ।