চারটি রাউটারই শুধু 2.4 GHz-এ চলে, সর্বোচ্চ 300 Mbps বাতাসে, আর তারের পোর্ট 100 Mbps-এর। এ কথা মাথায় রেখে পড়লে আপনার দরকারি তথ্য খুঁজে পেতে সহজ হবে। বাকি পার্থক্য অ্যান্টেনা, ডিজাইন আর ছোট কিছু সুবিধায়।

300 Mbps রাউটার কখন যথেষ্ট

ধরুন আপনার প্যাকেজ 30 বা 50 Mbps, বাসায় চার-পাঁচটি ফোন আর একটি টিভি চলে। এখানে রাউটারের 300 Mbps লিঙ্ক রেট প্যাকেজের চেয়ে অনেক বেশি, তাই Wi-Fi কখনও বাধা হবে না ধরে নিতে পারেন। সমস্যা হয় ভিন্ন জায়গায়: প্রতিবেশীর রাউটারও একই 2.4 GHz-এ থাকলে চ্যানেলে ভিড় হয়, আর ডিভাইস বাড়লে সবাই একই ব্যান্ড ভাগ করে নেয়। তাই এসব মডেল ছোট ফ্ল্যাট বা কম ডিভাইসের জন্য ভাবা হয়।

5 GHz দরকার হলে ডুয়াল-ব্যান্ড লাগবে। 5 GHz-এর অভাবে কী কী ঘটে, তা 5 GHz Wi-Fi দেখা যাচ্ছে না লেখায় আছে। কোন ধরনের রাউটার কার জন্য, তার পুরো ছক পাবেন বাসার জন্য রাউটার বাছার গাইডে।

চার মডেল এক টেবিলে

মডেলব্যান্ড ও গতিঅ্যান্টেনাপোর্ট
Tenda F32.4 GHz, 300 Mbps পর্যন্ত3টি বাইরের, 5 dBi1 WAN + 3 LAN, 10/100 Mbps
Tenda F62.4 GHz, 300 Mbps4টি বাইরের, 5 dBi1 WAN + 3 LAN, 10/100 Mbps
Cudy WR300SWi-Fi 4, 300 Mbps4টি স্থির (UNU-র স্পেক)10/100 Mbps (UNU-র স্পেকে 1 WAN + 4 LAN)
Ruijie RG-EW300 ProWi-Fi 4, 2.4 GHz, 300 Mbps4টি বাইরের, 5 dBi4টি Megabit পোর্ট

Cudy WR300S-এর অ্যান্টেনা ও পোর্টের লাইন UNU-র পণ্যের পাতা থেকে নেওয়া। কেনার আগে বাক্সের লেখার সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

কোনটি কেমন ঘরের জন্য

Tenda F3। তিনটি অ্যান্টেনার সহজ মডেল। UNU-র স্পেক অনুযায়ী এতে Router ছাড়াও Repeater, WISP ও AP মোড আছে। অর্থাৎ পরে রাউটার বদলালে এটিকে অন্য কাজে লাগানো যেতে পারে।

Tenda F6। চারটি অ্যান্টেনা, গতি আর পোর্ট F3-এর মতোই। Tenda-র পাতা অনুযায়ী অ্যাডাপ্টার আউটপুট DC 9V, 0.6A। দুটি Tenda মডেলের মূল পার্থক্য অ্যান্টেনার সংখ্যায়, গতিতে নয়, কারণ দুটোরই সর্বোচ্চ 300 Mbps।

Cudy WR300S। Cudy-র পাতায় 802.11n ও 300 Mbps লেখা। UNU-র স্পেকে চারটি স্থির অ্যান্টেনা ও পাঁচটি 10/100 পোর্টের কথা আছে, মানে LAN পোর্ট একটি বেশি। তারে একাধিক ডিভাইস লাগালে এই এক্সট্রা পোর্ট কাজে আসতে পারে।

Ruijie RG-EW300 Pro। Ruijie-র পাতায় 2.4 GHz-এ 8টি একযোগে ক্লায়েন্টের সুপারিশ আছে। বাসায় ডিভাইস আট-দশটির বেশি থাকলে এই সংখ্যাটি মাথায় রাখুন।

চারটি 300 Mbps সিঙ্গেল-ব্যান্ড রাউটারের অ্যান্টেনা ও পোর্ট তুলনার সারণি

দুটি সীমা, যা কেনার আগে বুঝে নিন

প্রথম সীমা পোর্ট। চারটি মডেলেই তারের গতি 100 Mbps পর্যন্ত। আপনার লাইন 100 Mbps-এর বেশি হলে WAN পোর্টেই গতি আটকে যাবে। তখন গিগাবিট পোর্টের মডেল দেখতে হবে, যেমন Archer C64 ও Ruijie EW1300G-এর তুলনা। দ্বিতীয় সীমা ব্যান্ড। শুধু 2.4 GHz হওয়ায় ভিড়ের ভবনে গতি ওঠানামা করতে পারে। চ্যানেল বদলে কিছুটা সামাল দেওয়া যায়, কিন্তু ব্যান্ড বাড়ানো যায় না।

নামের 300 সংখ্যাটির অর্থ কী, আর 1200 বা 1500 হলে কী বদলায়, তা বোঝার জন্য রাউটারের নামের সংখ্যা লেখাটি দেখুন।

আপনার অবস্থা অনুযায়ী কোন পথ

  • প্যাকেজ 100 Mbps পর্যন্ত, ডিভাইস কম, আর বাজেট কম: এই চারটির যেকোনোটি ভাবা যায়।
  • তারে বেশি ডিভাইস লাগাতে চান: LAN পোর্টের সংখ্যা মিলিয়ে নিন।
  • ভবনে অনেক Wi-Fi নেটওয়ার্ক, বা ডিভাইস দশটির বেশি: ডুয়াল-ব্যান্ড মডেল নিন।
  • লাইন 100 Mbps-এর বেশি: গিগাবিট পোর্টের মডেল নিন।

300 Mbps সংখ্যাটির একটি সহজ হিসাব

300 Mbps হলো রাউটার আর একটি ডিভাইসের মধ্যে বাতাসে সর্বোচ্চ লিঙ্ক রেট। এটি ইন্টারনেটের গতি নয়, আর একসঙ্গে সব ডিভাইসের জন্যও নয়। হিসাবের সুবিধার জন্য ধরুন ব্যান্ডের মোট ক্ষমতা 300 এবং পাঁচটি ডিভাইস একসঙ্গে ভিডিও চালাচ্ছে, তাহলে ভাগে পড়ে বড়জোর 60 Mbps করে। বাস্তবে এর চেয়ে কম পড়ে, কারণ ওয়্যারলেসে সংকেত পাঠানোর খরচ, দেয়াল আর অন্য নেটওয়ার্কের হস্তক্ষেপ আছে। এটি মোটামুটি বোঝার হিসাব, মাপা ফল নয়।

আপনার প্যাকেজ 40 Mbps হলে এই ভাগাভাগি তেমন ধরা পড়ে না, কারণ ISP-ই আগে সীমা দেয়। কিন্তু প্যাকেজ 100 Mbps হয়ে ডিভাইস বাড়লে Wi-Fi-ই আগে ক্লান্ত হয়। এই সীমাটাই একক-ব্যান্ড রাউটারের আসল পরিচয়।

প্রথম দিনের ছোট সেটআপ তালিকা

চারটি মডেলের মেনু আলাদা, তাই এখানে লক্ষ্যগুলো দেওয়া হলো, ক্লিকের পথ নয়। মডেলভেদে মেনুর নাম আলাদা হতে পারে, ম্যানুয়াল বা রাউটারের স্টিকার দেখে অ্যাডমিন ঠিকানায় ঢুকুন।

  1. অ্যাডমিন পাসওয়ার্ড ডিফল্ট থেকে বদলান, নইলে যে কেউ সেটিং ঘেঁটে দিতে পারে।
  2. Wi-Fi-র নাম ও পাসওয়ার্ড দিন। নিরাপত্তার ধরনে WPA2 বেছে নেওয়া সাধারণ নিয়ম, কারণ UNU-র স্পেকে Tenda F3 ও F6-এ এনক্রিপশন WPA/WPA2 লেখা, WPA3 নয়।
  3. ISP যে ধরন দিয়েছে (PPPoE, Dynamic IP বা Static IP) সেটি WAN সেটিংয়ে ঠিক করুন। ISP-র দেওয়া ইউজারনেম-পাসওয়ার্ড লাগলে তাদের কাছ থেকে নিন।
  4. রাউটার ঘরের মাঝামাঝি, খোলা জায়গায় রাখুন। মেঝেতে বা ধাতব শেলফের পাশে রাখবেন না।
  5. দুই-তিন দিন পর ভিড়ের সময় Wi-Fi ধীর লাগলে চ্যানেল বদলে দেখুন।

WPA3 লাগলে মডেলের তালিকায় তা আছে কি না আগে দেখুন, যেমন Archer AX12-এর TP-Link পাতায় WPA3-Personal লেখা।

তিনটির বদলে চারটি অ্যান্টেনা দেখে অনেকে ভাবেন সিগন্যাল বেশি ছড়াবে। বাস্তবে চারটির স্পেকেই সর্বোচ্চ রেট 300 Mbps, আর এই রেট কত দূর পর্যন্ত টিকবে তা অ্যান্টেনার সংখ্যা একা ঠিক করে না। রাউটারের অবস্থান, দেয়াল, আর ডিভাইসের নিজের অ্যান্টেনা এখানে বেশি ভূমিকা রাখে। তাই অ্যান্টেনার সংখ্যাকে ছোট একটি সুবিধা হিসেবে দেখুন, গতির গ্যারান্টি হিসেবে নয়। ফ্ল্যাটে সিগন্যাল দুর্বল হলে আগে রাউটার সরিয়ে দেখা সহজ ও খরচহীন উপায়।

প্যাকেজ বা ডিভাইস ভবিষ্যতে বাড়ানোর কথা থাকলে ডুয়াল-ব্যান্ড মডেল আগেই ভাবুন। চার মডেলের মধ্যে কোনটি আপনার ঘরের মাপে মানায়, তা UNU Technology-র 01340751013 নম্বরে জিজ্ঞেস করতে পারেন।

সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

300 Mbps রাউটারে কি 300 Mbps ইন্টারনেট চলবে?

না। 300 Mbps হলো বাতাসে সর্বোচ্চ লিঙ্ক রেট। তাছাড়া এই চার মডেলের পোর্ট 100 Mbps-এর, তাই তারের পথে 100 Mbps-এর বেশি যাবে না।

এই রাউটারগুলো কি Access Point বা Repeater হিসেবে চলে?

Tenda F3-র শপ-স্পেকে Router, Repeater, WISP ও AP মোডের কথা লেখা। বাকিগুলোর মোড মডেলের ম্যানুয়াল দেখে নিন।

একটি ঘরে একসঙ্গে কতগুলো ডিভাইস চালানো যায়?

Ruijie EW300 Pro-র পাতায় 2.4 GHz-এ 8টি একযোগে ক্লায়েন্টের সুপারিশ আছে। বাড়তি ডিভাইস থাকলে ডুয়াল-ব্যান্ড ভাবুন।

পরে 5 GHz লাগলে কী করব?

এই চার মডেলে 5 GHz যোগ করা যায় না, তার জন্য হার্ডওয়্যারে আলাদা রেডিও লাগে। তখন ডুয়াল-ব্যান্ড মডেলে যেতে হবে।