আপনার রাউটারের মডেল যদি Tenda F3, Tenda F6, Ruijie RG-EW300 Pro বা Cudy WR300S হয়, তাহলে Wi-Fi তালিকায় 5 GHz নাম না পাওয়াটাই স্বাভাবিক। এসব রাউটার শুধু 2.4 GHz-এ চলে। কিন্তু আপনার রাউটার যদি ডুয়াল-ব্যান্ড হয় আর তবু 5 GHz নাম না আসে, তাহলে নিচের সাতটি কারণের একটি আপনার ক্ষেত্রে মিলবে। এক মিনিটের একটা মিলিয়ে দেখা দিয়ে শুরু করুন।
এক মিনিটে জানুন আপনার রাউটারে 5 GHz আছে কি না
রাউটারের নিচের স্টিকারে বা বাক্সে মডেলের নাম থাকে। সেই নামে খুঁজে প্রস্তুতকারকের স্পেক পাতায় Frequency বা Wireless লাইনটি দেখুন। শুধু "300Mbps" লেখা থাকলে সেটা প্রায় নিশ্চিতভাবে একক-ব্যান্ড। ডুয়াল-ব্যান্ড মডেলে দুটি আলাদা গতি লেখা থাকে, যেমন 300 Mbps আর 867 Mbps। নিচের তালিকায় কয়েকটি মডেল মিলিয়ে দেখা যাবে।
| মডেল | ব্যান্ড | বাতাসে গতি (প্রস্তুতকারকের পাতা অনুযায়ী) |
|---|---|---|
| Tenda F3 | শুধু 2.4 GHz | 300 Mbps পর্যন্ত |
| Tenda F6 | শুধু 2.4 GHz | 300 Mbps পর্যন্ত |
| Ruijie RG-EW300 Pro | শুধু 2.4 GHz | 300 Mbps |
| Ruijie RG-EW1200 | 2.4 GHz ও 5 GHz | 300 Mbps ও 867 Mbps |
Cudy WR300S Wi-Fi 4 (802.11n), 300 Mbps, আর UNU-র পণ্যের পাতায় ব্যান্ড 2.4 GHz। তাই Cudy WR300S থেকেও 5 GHz আশা করবেন না।
সাতটি কারণ, সম্ভাবনার ক্রমে
১. একক-ব্যান্ড রাউটার। ওপরের তালিকার প্রথম তিনটি মডেলের মতো। এতে কোনো সেটিং বদলে 5 GHz আসবে না, কারণ হার্ডওয়্যারে 5 GHz রেডিওই নেই। 5 GHz দরকার হলে ডুয়াল-ব্যান্ড মডেল নিতে হবে। 2.4 আর 5 GHz-এর পার্থক্য সহজ ভাষায় আছে TP-Link Archer C54-এর রিভিউয়ে।
২. রাউটারের সেটিংয়ে 5 GHz বন্ধ। রাউটারের অ্যাডমিন পাতায় Wireless বা Wi-Fi অংশে প্রতিটি ব্যান্ডের আলাদা চালু-বন্ধ সুইচ থাকে। কেউ আগে বন্ধ করে থাকলে চালু করুন। মডেলভেদে মেনুর নাম আলাদা হতে পারে, তাই খুঁজুন "5 GHz" বা "Enable Wireless Radio" জাতীয় লাইন।
৩. দুই ব্যান্ডের একটাই নাম বা Smart Connect চালু। কিছু রাউটারে দুই ব্যান্ড একই নামে দেখায়, তখন তালিকায় একটাই নাম আসে। TP-Link-এর সাপোর্ট ফোরামে ব্যবহারকারীরা পরামর্শ দিয়েছেন, দুই নাম আলাদা করে দেখতে Smart Connect বন্ধ করতে হয়। বন্ধ করে 2.4 GHz আর 5 GHz নাম আলাদা করে দিলে কোন ডিভাইস কোথায় লাগছে বোঝা সহজ হয়।
৪. SSID লুকানো (Hidden SSID)। TP-Link-এর সাপোর্ট পাতা বলছে, Hide SSID চালু থাকলে নেটওয়ার্কের নাম তালিকায় আসে না। নেটওয়ার্ক থাকে, কিন্তু নাম হাতে লিখে যুক্ত হতে হয়। 5 GHz-এর Hide SSID টিক খোলা আছে কি না দেখুন।
৫. আপনার ডিভাইস 5 GHz চেনে না। পুরোনো ফোন, কিছু সস্তা স্মার্ট টিভি বা ল্যাপটপের Wi-Fi কার্ড শুধু 2.4 GHz-এ কাজ করে। রাউটার ঠিক থাকলেও সেই ডিভাইসে 5 GHz নাম আসবে না। অন্য ফোনে একই তালিকা দেখে তুলনা করুন। একটি ফোনে এলে রাউটার ঠিক আছে।
৬. চ্যানেল ও বিশেষ চ্যানেলের অপেক্ষা। কিছু ডুয়াল-ব্যান্ড রাউটারে 5 GHz-এর কয়েকটি চ্যানেল রাডার-সংক্রান্ত নিয়মে (DFS) চালুর আগে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে পারে। রাউটার চালু করার পর পাঁচ-সাত মিনিট সময় দিন। না এলে Auto থেকে একটা নির্দিষ্ট চ্যানেল বেছে দেখতে পারেন। কোন চ্যানেল আপনার মডেলে কাজ করে, তার তালিকা ম্যানুয়ালে থাকে। TP-Link-এর সাপোর্ট ফোরামের কিছু আলোচনায় পুরোনো রাউটারে চ্যানেল স্থির করে বা চ্যানেল প্রস্থ 40 MHz করে ঠিক হওয়ার কথা আছে, তবে সব মডেলে একই ফল হয় না।
৭. 5 GHz আছে, কিন্তু আপনি দূরে। 5 GHz সিগন্যাল দেয়াল পার হতে 2.4 GHz-এর চেয়ে দুর্বল। ঢাকার ফ্ল্যাটে দুটি কংক্রিট দেয়ালের ওপারে গেলে নামটাই হারিয়ে যেতে পারে। রাউটারের ঠিক পাশের ঘরে গিয়ে আবার দেখুন। তখন এলে সমস্যা সিগন্যালের, রাউটারের নয়।
রাউটারের অ্যাডমিন পাতায় ব্যান্ড দেখার সাধারণ পথ
মডেলভেদে মেনুর নাম আলাদা, তবে লক্ষ্যটা এক: রাউটারের ভেতরে প্রতিটি ব্যান্ডের অবস্থা দেখা।
- ব্রাউজারে রাউটারের অ্যাডমিন ঠিকানা খুলুন (স্টিকারে লেখা থাকে) এবং অ্যাডমিন পাসওয়ার্ডে ঢুকুন।
- Wireless, Wi-Fi Settings বা Basic Settings জাতীয় মেনুতে যান।
- এখানে 2.4 GHz আর 5 GHz আলাদা ট্যাব বা লাইন হিসেবে থাকার কথা। ডুয়াল-ব্যান্ড মডেলে 5 GHz-এর লাইনের পাশে চালু-বন্ধ সুইচ দেখবেন।
- মেনুতে 5 GHz-এর কোনো উল্লেখই না থাকলে বুঝবেন মডেলটি একক-ব্যান্ড, কারণ ১ নম্বরের মতো।
- পরিবর্তন করলে Save চাপুন, তারপর রাউটার একবার রিস্টার্ট করে ফোনে তালিকা রিফ্রেশ করুন।
শুধু 2.4 GHz-এ কি চলবে?
5 GHz না থাকলেই যে সমস্যা, তা নয়। ১০০ Mbps-এর কম লাইনে, যেখানে বেশি ডিভাইস নেই, একটি 2.4 GHz রাউটার অনেক ঘরের জন্য যথেষ্ট হতে পারে। 2.4 GHz দেয়াল ভেদ করে ভালো যায়, সেটা তার সুবিধা। অসুবিধা হলো প্রতিবেশীর অনেক রাউটার একই ব্যান্ডে থাকলে ভিড়, আর বাতাসে গতির সীমা 300 Mbps-এ আটকে থাকা। যদি আপনার লাইন বেশি গতির হয় বা ঘরে অনেক ডিভাইস থাকে, তখন ডুয়াল-ব্যান্ড মডেল ভাবুন। ভিড়ের ফ্ল্যাটে 5 GHz-এ ডিভাইস সরালে অনেকটাই হালকা হয়।

ফোন ও ল্যাপটপ 5 GHz চেনে কি না জানার উপায়
ফোনের মডেল নাম ধরে ইন্টারনেটে স্পেক খুঁজলে Wi-Fi লাইনে "dual-band" বা "802.11ac/ax" লেখা পাবেন। এসব থাকলে ফোন 5 GHz চেনে। Windows ল্যাপটপে কমান্ড প্রম্পট খুলে netsh wlan show drivers চালালে "Radio types supported" লাইনে 802.11a, 802.11n, 802.11ac এমন তালিকা আসে। 802.11a বা 802.11ac থাকলে সেই কার্ড 5 GHz জানে। শুধু 802.11b/g/n থাকলে কার্ডটি 2.4 GHz-এর। এতে অকারণে রাউটারের সেটিং ঘাঁটতে হয় না।
নাম দেখা গেলে আর যুক্ত না হলে
নাম আসছে কিন্তু পাসওয়ার্ড দিয়েও যুক্ত হচ্ছে না, এটা আলাদা সমস্যা। তখন পাসওয়ার্ডের ছোট-বড় হাতের অক্ষর, ডিভাইসের পুরোনো সেভ করা পাসওয়ার্ড, এসব দেখতে হয়। TP-Link ফোরামের একটি উত্তরে নামটি শুধু অক্ষর ও সংখ্যায় রেখে আবার চেষ্টা করার কথাও আছে।
ঠিক না হলে কখন রাউটার বদলাবেন
উপরের সবকটি দেখে ফেলার পরও 5 GHz না এলে, বিশেষ করে ফার্মওয়্যার আপডেটের পর হারিয়ে গেলে, সেটা হার্ডওয়্যার বা ফার্মওয়্যার ত্রুটি হতে পারে। রিসেট ও ফার্মওয়্যার আপডেট চেষ্টার পর প্রস্তুতকারকের সাপোর্টে যোগাযোগ করুন।
নতুন রাউটার নিলে 5 GHz লাগলে মডেলের পাতায় দুটি আলাদা গতি আছে কি না দেখুন, যেমন Ruijie RG-EW1200-এর ক্ষেত্রে 300 ও 867 Mbps। এই ব্যান্ডে কোন সংখ্যা মানে কী, তা বুঝতে পারবেন নামের সংখ্যার ব্যাখ্যা থেকে।
5 GHz-এর জন্য কোন মডেল নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধা থাকলে UNU Technology-র 01340751013 নম্বরে জানান।
আরও পড়ুন
সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
একক-ব্যান্ড রাউটারে সফটওয়্যার আপডেট দিলে কি 5 GHz আসবে?
না। 5 GHz-এর জন্য রাউটারে আলাদা রেডিও হার্ডওয়্যার লাগে, আপডেটে তা যোগ হয় না।
দুই ব্যান্ডের নাম আলাদা রাখা কি ভালো?
আলাদা নাম থাকলে কোন ডিভাইস কোন ব্যান্ডে, তা নিজে ঠিক করা যায়। ক্যামেরা বা স্মার্ট ডিভাইস যুক্ত করার সময় 2.4 GHz নাম আলাদা থাকলে সুবিধা।
5 GHz-এর পাসওয়ার্ড 2.4 GHz থেকে আলাদা হওয়া কি জরুরি?
না, দুটো একই রাখা যায়। নাম আলাদা রাখাটাই কাজে লাগে।
ল্যাপটপে 5 GHz আসে না কিন্তু ফোনে আসে, কেন?
ল্যাপটপের Wi-Fi কার্ড বা ড্রাইভার 5 GHz না-ও চিনতে পারে। ড্রাইভার আপডেট করে দেখুন, না হলে কার্ড হয়তো শুধু 2.4 GHz-এর।
