সন্ধ্যা সাতটা, ভবনের প্রায় সব ফ্ল্যাটে ভিডিও চলছে, আর আপনার ফোনে Wi-Fi-র পুরো দাগ থাকলেও ভিডিও থেমে থেমে চলে। এমন সময় সমস্যা সিগন্যালের জোরে নয়, চ্যানেলের ভিড়ে হতে পারে। দশ-বারোটি রাউটার একই ব্যান্ডের কয়েকটি চ্যানেলে ঠাসাঠাসি করছে, আর সবাই একে অন্যের কথায় বাধা দিচ্ছে। এই লেখায় দেখব কীভাবে এই ভিড় চিনবেন আর নিজের চ্যানেল বদলে কতটা সুবিধা পাওয়া যায়।
গতি কমার আরও কারণ থাকতে পারে, সেসব এক জায়গায় আছে বাসার Wi-Fi ধীর হলে করণীয় লেখায়। এখানে শুধু চ্যানেলের অংশটা খুলে বলছি, এবং ধরে নিচ্ছি আপনার রাউটারের অ্যাডমিন পাতায় ঢোকার পাসওয়ার্ড আপনার কাছে আছে।
চ্যানেল আসলে কী
2.4 GHz ব্যান্ডটা একটা চওড়া রাস্তার মতো, যাকে ছোট ছোট লেনে ভাগ করা হয়েছে, যাদের নাম চ্যানেল 1, 2, 3 এবং এভাবে এগিয়ে। প্রতিটি রাউটার একটি লেন বেছে নেয়। সমস্যা হলো, পাশের লেনগুলো পুরোপুরি আলাদা নয়, আংশিক ঢুকে থাকে। TP-Link-এর সাপোর্ট পাতা অনুযায়ী ২০ MHz প্রস্থে চ্যানেল 1, 6 ও 11 একে অন্যের সঙ্গে ব্যাঘাত ঘটায় না। এই কারণেই বেশিরভাগ নির্দেশিকা এই তিনটির কথা বলে।
উদাহরণ দিই। আপনার রাউটার চ্যানেল 3-এ চলছে, প্রতিবেশীর একটি 1-এ, আরেকটি 6-এ। আপনার চ্যানেল দুই পাশেরই কিছুটা ঢুকে পড়ছে, ফলে দুজনের সঙ্গেই ঝামেলা। আপনি 11-এ গেলে, যদি সেখানে কেউ না থাকে, তিন রাউটারই একে অন্যের থেকে আলাদা হয়ে যায়।
আপনার ভিড় হয়েছে কি না, আগে দেখুন
অনেকে ধরে নেন, Wi-Fi ধীর মানেই চ্যানেল বদলাতে হবে। বাস্তবে চ্যানেল বদল সব সমস্যার ওষুধ নয়, তাই আগে নিশ্চিত হয়ে নিন।
অনুমানে চ্যানেল বদলাবেন না। একটি Wi-Fi analyzer অ্যাপ নামিয়ে আপনার চারপাশের নেটওয়ার্কগুলো কোন চ্যানেলে চলছে, তার তালিকা দেখুন। একই অ্যাপ নিয়ে ফ্ল্যাটের সিগন্যাল মাপার নিয়ম আছে ফ্ল্যাটের কোন ঘরে সিগন্যাল কত লেখায়। ভিড়ের ছাপ চেনা সহজ।
- তালিকায় ১০টির বেশি নেটওয়ার্ক, আর তার বেশিরভাগ ঘুরেফিরে একই দু-তিনটি চ্যানেলে।
- আপনার নেটওয়ার্কের সংখ্যা ভালো (শূন্যের কাছাকাছি), তবু ভিডিও ঝাপসা বা কল কাটছে।
- সকালে ভালো চলে, সন্ধ্যায় কমে যায়। রাতে সবাই বাসায় এলে ভিড় বাড়ে।
এর কোনোটিই এককভাবে প্রমাণ নয়, তিনটি মিললে সন্দেহ জোরালো হয়। এই চিহ্ন না থাকলে চ্যানেল বদলে বিশেষ লাভ হবে না, তখন অন্য কারণ দেখুন।
কোন চ্যানেলে যাবেন
অ্যাপের তালিকায় 1, 6 ও 11-এ কয়টি করে নেটওয়ার্ক আছে, গুনে নিন। সবচেয়ে কম ভিড়ের চ্যানেলটি আপনার প্রার্থী। দুজন প্রতিবেশীর সংকেত বেশি জোরালো হলে সংখ্যা কম হলেও তাদের চ্যানেল এড়ান। ধরুন ফল এমন:
| চ্যানেল | চারপাশে নেটওয়ার্ক | সবচেয়ে জোরালো সংকেত |
|---|---|---|
| 1 | ৬টি | অনেক জোরালো |
| 6 | ৫টি | মাঝারি |
| 11 | ২টি | দুর্বল |
তালিকা দেখার সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। দুপুরে অনেক ফ্ল্যাট ফাঁকা থাকে, তাই ভিড়ের আসল ছবি পেতে সন্ধ্যা সাতটা থেকে ন'টার মধ্যে একবার দেখে নিন। সম্ভব হলে দুই দিন দেখুন, কারণ একদিনের ছবি পুরো চিত্র নাও দেখাতে পারে। যে চ্যানেলে প্রতিবেশীর সংকেত সারাদিন একই জোরে থাকে, সেটি এড়ানোই ভালো।
এই কাল্পনিক ছকে 11 সবচেয়ে ফাঁকা, তাই সেখানে যাওয়াই যুক্তিসংগত। আপনার ভবনের ছক আলাদা হবে।
একটি সতর্কতা: দেশভেদে ব্যবহারযোগ্য চ্যানেলের তালিকা আলাদা। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত 1 থেকে 11 আর অন্য বহু দেশে 1 থেকে 13 চলে। আপনার রাউটারের চ্যানেল তালিকায় যা দেখান, সেখান থেকেই বেছে নিন, তালিকার বাইরের কিছু বসানোর চেষ্টা করবেন না।

রাউটারে চ্যানেল বদলানোর ধাপ
মডেলভেদে মেনুর নাম আলাদা হতে পারে। TP-Link-এর বর্তমান ডুয়াল-ব্যান্ড মডেলে পথটি Advanced, তারপর Wireless, তারপর Wireless Settings। অন্য ব্র্যান্ডে নাম আলাদা হলেও লক্ষ্য একই: 2.4 GHz-এর চ্যানেল Auto থেকে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যায় আনা।
- রাউটারের অ্যাডমিন পাতায় ঢুকুন।
- Wireless বা Wi-Fi Settings মেনুতে যান, 2.4 GHz অংশ বেছে নিন।
- Channel লেখা ঘরে Auto সরিয়ে আপনার বেছে নেওয়া সংখ্যা (ধরুন 11) বসান।
- Channel Width ঘরে 20 MHz রাখুন (নিচে কারণ আছে)।
- Save চাপুন। কিছু মডেল রিস্টার্ট চাইতে পারে, তখন সেটি করুন।
ভিড়ের সমস্যা না থাকলে চ্যানেল ও প্রস্থ ডিফল্টে রাখাই ভালো। তাই এই পরিবর্তন কেবল ভিড়ের সমস্যা সন্দেহ হলেই করুন।
বদলানোর পর কয়েকটি বিষয় মনে রাখুন। প্রথমত, রাউটার রিসেট হলে চ্যানেল আবার Auto-তে ফিরে যাবে, তাই নতুন করে বসাতে হবে। সেটিংটা কাগজে লিখে রাখুন। দ্বিতীয়ত, পাশের ফ্ল্যাটে নতুন রাউটার বসলে আজকের ফাঁকা চ্যানেল কাল ভরে যেতে পারে, তাই কিছুদিন পরপর ভিড়ের তালিকা দেখে নিন। তৃতীয়ত, বাসায় দ্বিতীয় রাউটার বা Access Point থাকলে দুটোকে একই চ্যানেলে না রেখে আলাদা (1 আর 11) রাখুন, নইলে নিজের ডিভাইসই নিজের সঙ্গে ব্যাঘাত ঘটাবে।
চ্যানেল প্রস্থ: কেন 20 MHz
চ্যানেল প্রস্থ বাড়ালে এক সময়ে বেশি ডেটা যায়, কিন্তু বেশি জায়গা লাগে আর ব্যাঘাতও বাড়ে। বেশিরভাগ Wi-Fi নেটওয়ার্কে 20 MHz-ই সাধারণ প্রস্থ, আর চওড়া প্রস্থ ব্যাঘাতে বেশি ভোগে। ঘিঞ্জি ভবনে তাই 2.4 GHz-এ 20 MHz রাখা নিরাপদ পছন্দ। 40 MHz দেখে লোভ লাগলেও ভিড়ের মধ্যে তা উল্টো ফল দিতে পারে।
একটি জিনিস মাথায় রাখুন: চ্যানেল বদলে ভিড়ের ব্যাঘাত কমে, কিন্তু রাউটার থেকে দূরের ঘরের দুর্বল সিগন্যাল ঠিক হয় না। সিগন্যালের সমস্যা হলে আগে নকশা বানিয়ে রাউটারের জায়গা বদলাতে হবে।
বদলের পর ফল যাচাই
বদলের আগে একটি ফাইল ডাউনলোড বা ভিডিও কল করে অবস্থা লিখে রাখুন। বদলের পর সন্ধ্যার ভিড়ের সময় একই কাজ করুন। ভিডিও থেমে থাকা কমল কি না, কলের শব্দ ভাঙছে কি না, এটাই আসল পরীক্ষা। গতির সংখ্যা বাড়ল না কিন্তু থেমে যাওয়া কমল, এটাও লাভ। না কমলে আরেকটি চ্যানেলে চেষ্টা করুন। তিনটির কোনোটিতেই না হলে ভিড়ের কারণটা ভুল ছিল।
চ্যানেলে না হলে 5 GHz-এ সরুন
5 GHz ব্যান্ডে চ্যানেল বেশি, তাই ভিড় অনেক কম। ডুয়াল-ব্যান্ড রাউটার থাকলে ভিডিও বা কলের ডিভাইসগুলো 5 GHz নামে যুক্ত করুন, তবে রাউটার থেকে দূরে গেলে 5 GHz দুর্বল হয়ে পড়ে। 5 GHz নাম না দেখালে দেখুন 5 GHz Wi-Fi দেখা না যাওয়ার কারণ।
আপনার রাউটার যদি শুধু 2.4 GHz-এর হয়, তখন ডুয়াল-ব্যান্ড মডেল ভাবতে হবে। যেমন Ruijie RG-EW1200, যার 2.4 GHz-এ 300 Mbps ও 5 GHz-এ 867 Mbps পর্যন্ত বাতাসে গতি। এগুলো তাত্ত্বিক সংখ্যা, আর ঘিঞ্জি ভবনের আসল গতি এর চেয়ে কম হবে। মডেল নিয়ে প্রশ্ন থাকলে 01340751013 নম্বরে UNU Technology-র সঙ্গে কথা বলুন।
সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
Auto চ্যানেল রেখে দিলে ক্ষতি কী?
কোনো ক্ষতি নেই, অনেক বাসায় Auto ঠিকই চলে। তবে ভিড়ের মধ্যে রাউটার মাঝে মাঝে চ্যানেল বদলায়, আর তখন সংযোগ কাঁপতে পারে। সেই সময় নির্দিষ্ট চ্যানেলে স্থির করে দেখা যায়।
5 GHz-এও কি চ্যানেল বদলাতে হয়?
সাধারণত না। 5 GHz-এ চ্যানেল বেশি, তাই ভিড় কম। অনেক রাউটার সেখানে Auto রাখলেই চলে।
চ্যানেল প্রস্থ 40 MHz রাখলে গতি বাড়ে?
কাগজে বাড়ে, কিন্তু ঘিঞ্জি ভবনে 40 MHz বেশি জায়গা নেয় আর ব্যাঘাতও বেশি পায়। ভিড়ের মধ্যে 20 MHz বেশি স্থির চলে, এ কথা TP-Link-এর পাতায় সাধারণ সুপারিশ হিসেবে আছে।
প্রতিবেশীকে চ্যানেল বদলাতে বলা যায়?
যায়, কিন্তু সবাই রাজি হবে না। নিজের চ্যানেল বদলানোই সহজ আর আপনার হাতে।
