ড্রয়ারের এক কোণায় রাখা পুরোনো রাউটারটা কি কোনোদিন কাজে লাগবে না? দূরের বেডরুমে Wi-Fi দুর্বল হলে সেটিই হতে পারে সবচেয়ে সস্তা সমাধান, যদি ঘরে একটা তার টানা যায়। কৌশলটার নাম Access Point (AP) মোড: পুরোনো রাউটারকে তার দিয়ে প্রধান রাউটারের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়, আর সে শুধু Wi-Fi সিগন্যাল ছড়ায়, ইন্টারনেট সংযোগের কাজটা করে না।

তারের ঝামেলা এড়িয়ে মেশ বা দ্বিতীয় রাউটারের তুলনা আছে মেশ রাউটার নাকি দ্বিতীয় রাউটার লেখায়। আর সিগন্যাল ধীর হওয়ার মূল কারণগুলো আছে বাসার Wi-Fi ধীর হলে করণীয় লেখায়। এখানে ধরে নিচ্ছি আপনার হাতে একটি পুরোনো রাউটার আছে আর অন্য ঘর পর্যন্ত তার টানার সুযোগ আছে।

AP মোড কী আর কেন কাজ করে

দুটি রাউটার সাধারণভাবে পাশাপাশি জুড়লে প্রত্যেকে নিজের আলাদা নেটওয়ার্ক বানাতে চায়। এতে ঝামেলা বাড়ে: একটা নেটওয়ার্কের ভেতর আরেকটা নেটওয়ার্ক। AP মোডে পুরোনো রাউটার IP ঠিকানা বিলি করা বন্ধ করে, শুধু Wi-Fi সিগন্যাল দেয়। সব ডিভাইসের ঠিকানা দেয় প্রধান রাউটারই। ফল: ফোন দুই রাউটারের যেটিতেই যুক্ত থাকুক, আপনার ঘরের প্রিন্টার বা শেয়ার করা ফোল্ডার একই নেটওয়ার্কে দেখা যায়।

পুরোনো রাউটারকে AP বানাতে কী কী লাগবে

  • পুরোনো রাউটার, যার অ্যাডমিন পাসওয়ার্ড আপনি জানেন। না জানলে রিসেট বোতাম লাগবে, আর তাতে আগের সব সেটিং মুছে যাবে।
  • একটি LAN তার, যার দৈর্ঘ্য দুই ঘরের দূরত্বের সমান।
  • প্রধান রাউটারের অ্যাডমিন পাতা খোলার সুযোগ, কারণ সেখান থেকে একটি সংখ্যা দেখতে হবে।

দেখে নিন আপনার রাউটারে AP মোড আছে কি না

সব মডেলে এক নিয়ম নয়। কিছু রাউটারে Operation Mode নামে মেনু থাকে, সেখান থেকে Access Point বেছে নিলেই কাজ প্রায় হয়ে যায়। না থাকলে নিচের হাতে করার পদ্ধতিটি কাজ করে, যেটি TP-Link রাউটারে চলে। অন্য ব্র্যান্ডে মেনুর নাম আলাদা হলেও ধারণা একই।

দুটি মডেলের উদাহরণ ধরা যাক। Tenda AC7-এর UNU পাতার স্পেকে অপারেটিং মোডের তালিকায় Router, AP আর Universal Repeater লেখা আছে। আপনার সংস্করণের ম্যানুয়ালে মোডটি আছে কি না দেখে নিন। Ruijie RG-EW1200-এ AP মোড আছে কি না, তা ম্যানুয়াল বা অ্যাডমিন পাতায় নিজে দেখে নিন।

হাতে করার ধাপ (TP-Link-এর পদ্ধতি অনুযায়ী)

  1. প্রধান রাউটারের ঠিকানা-পরিসর জানুন। প্রধান রাউটারের অ্যাডমিন পাতায় DHCP সেটিং খুলে দেখুন কোন পরিসরের ঠিকানা সে বিলি করে, যেমন 192.168.2.100 থেকে 192.168.2.199। আপনার সংখ্যা আলাদা হবে, ওটা লিখে রাখুন।
  2. পুরোনো রাউটারকে কম্পিউটারে যুক্ত করুন। আগে তারটি প্রধান রাউটারে লাগাবেন না। কম্পিউটারকে পুরোনো রাউটারের LAN পোর্টে তার দিয়ে যুক্ত করে তার অ্যাডমিন পাতায় ঢুকুন।
  3. LAN IP বদলান। Advanced, তারপর Network, তারপর LAN-এ গিয়ে IP ঠিকানা এমন দিন যেটি প্রধান রাউটারের একই গোষ্ঠীর কিন্তু বিলি-পরিসরের বাইরে। ওপরের উদাহরণে 192.168.2.11 চলবে। সেভ করলে রাউটার রিস্টার্ট হবে, আর নতুন ঠিকানা দিয়ে আবার ঢুকতে হবে।
  4. নাম ও পাসওয়ার্ড বসান। Wireless অংশে নাম আর পাসওয়ার্ড বসান। ডুয়াল-ব্যান্ড মডেলে দুই ব্যান্ডেই করুন। নিরাপত্তার ধরন WPA/WPA2-Personal রাখুন।
  5. DHCP বন্ধ করুন। DHCP Server অংশে গিয়ে সার্ভারটি Disable করুন।
  6. রিবুট করুন। সেটিং সেভ করে রাউটার রিস্টার্ট করুন।
  7. তার লাগান। এবার প্রধান রাউটারের একটি LAN পোর্ট থেকে পুরোনো রাউটারের যে-কোনো LAN পোর্টে তার লাগান। পুরোনো রাউটারের WAN পোর্টে নয়।

নতুন ঠিকানাটি খাতায় লিখে রাখুন। DHCP বন্ধ থাকলে পুরোনো রাউটারের অ্যাডমিন পাতায় ঢুকতে ওই ঠিকানা লাগবে, নইলে রিসেট ছাড়া আর উপায় থাকে না।

প্রধান রাউটার থেকে LAN তারে যুক্ত দ্বিতীয় রাউটারের AP হিসেবে বসানোর ছক

নাম, পাসওয়ার্ড আর চ্যানেল

দুই রাউটারের নাম ও পাসওয়ার্ড একই রাখলে ফোন এক নামেই দুই জায়গায় যুক্ত হতে পারে। তবে কখন কোনটিতে যাবে, তা ফোন নিজে ঠিক করে, কখনও দূরের AP-তেই আটকে থাকে। তাই কোন ঘরে কোনটি, তা বুঝতে চাইলে আলাদা নাম রাখাও ঠিক পদ্ধতি। দুই রাউটারকে একই চ্যানেলে রাখলে নিজেদের মধ্যে ব্যাঘাত হয়। 2.4 GHz-এ প্রধানটি 1-এ আর AP-কে 11-এ রাখা একটি সহজ হিসাব, কারণ 1, 6 ও 11 পরস্পরের সঙ্গে ব্যাঘাত ঘটায় না।

জায়গা কোথায় বসাবেন

তার লাগানোর আগে ঠিক করে নিন তারটি কোন পথে যাবে। দরজার নিচ দিয়ে তার গেলে দরজা বন্ধ করার চাপে নষ্ট হতে পারে, তাই দেয়ালের পাশ বা স্কার্টিং ধরে নিন। তার খুব লম্বা হলে দুই ঘরের মাঝে প্লাস্টিকের নালি ব্যবহার করুন। তার কাটা বা জোড়া দেওয়া নিজে করবেন না।

AP-কে প্রধান রাউটার আর দুর্বল ঘরের মাঝামাঝি বসান, একেবারে দূরের কোণায় নয়। দুই রাউটারের সিগন্যাল যেন মাঝখানে কিছুটা মেলে। মেশ ব্যবস্থার একটি উদাহরণ আছে Huawei WA8021V5 রিভিউতে। জায়গা ঠিক করার আগে সংখ্যা দেখে নিতে চাইলে ঘরে ঘরে সিগন্যাল মাপার নিয়ম কাজে লাগবে।

যেসব ভুল সবচেয়ে বেশি হয়

ভুলফলসমাধান
DHCP বন্ধ না করাদুই রাউটার একই সঙ্গে ঠিকানা দেয়, ডিভাইস এলোমেলো যুক্ত হয়পুরোনো রাউটারের DHCP Server বন্ধ করুন
একই IP ঠিকানা বসানোদুই রাউটার একই ঠিকানায়, কোনোটিতেই ঢোকা যায় নাবিলি-পরিসরের বাইরে আলাদা ঠিকানা দিন
WAN পোর্টে তারনির্দেশের সঙ্গে মেলে না, নেট না-ও আসতে পারেLAN থেকে LAN-এ লাগান
নতুন ঠিকানা ভুলে যাওয়াঅ্যাডমিন পাতায় ঢোকা যায় নাখাতায় লিখে রাখুন, না হলে রিসেট

দ্বিতীয় সারির ঝামেলা এড়াতে প্রধান রাউটারের ঠিকানা আগে দেখে নিন, সাধারণত রাউটারের স্টিকারে বা অ্যাডমিন পাতায় লেখা থাকে। AP-র ঠিকানা তার চেয়ে আলাদা হতেই হবে।

আরেকটি ভুল ধারণা হলো, AP বসালেই গতি দ্বিগুণ হবে। তা হয় না। AP-র মাধ্যমে ইন্টারনেট এখনও প্রধান রাউটারের লাইনের গতিতেই আসে। AP যা বাড়ায়, তা হলো দূরের ঘরে সিগন্যালের জোর, গতির সর্বোচ্চ সীমা নয়। আর তার দিয়ে যুক্ত করার বড় সুবিধা হলো, ডিভাইসের মধ্যবর্তী Wi-Fi ধাপ বাদ পড়ে বলে সংযোগ সাধারণত বেশি স্থির থাকে।

AP ঠিকমতো চলছে কি না দেখুন

  1. ফোনে AP-র Wi-Fi নামে যুক্ত হোন।
  2. ব্রাউজারে একটি পাতা খুলে ইন্টারনেট চলছে কি না দেখুন।
  3. প্রধান রাউটারের ক্লায়েন্ট তালিকায় ফোনটি দেখা যাচ্ছে কি না দেখুন। দেখা গেলে AP ঠিকমতো কাজ করছে।
  4. দূরের ঘরে গিয়ে সিগন্যাল আগের চেয়ে ভালো কি না মিলিয়ে দেখুন।

ইন্টারনেট না এলে তারটি LAN থেকে LAN-এ আছে কি না, আর DHCP সত্যিই বন্ধ আছে কি না আবার দেখুন। নতুন রাউটারের কথা ভাবলে বা মডেল নিয়ে প্রশ্ন থাকলে UNU Technology-র 01340751013 নম্বরে জানতে পারেন।

সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

AP-র WAN পোর্টে তার লাগালে কী হয়?

TP-Link-এর পাতায় দুই রাউটারের LAN পোর্টে তার লাগাতে বলা হয়েছে, WAN পোর্টের কথা নেই। তাই LAN পোর্টেই লাগান।

দুই রাউটারে একই নাম রাখা কি জরুরি?

জরুরি নয়। একই নাম ও পাসওয়ার্ড রাখলে ফোন এক নামেই দুই জায়গায় যুক্ত হতে পারে, তবে কখন কোনটিতে যাবে তা ফোনই ঠিক করে।

AP-তে ফাইল শেয়ার বা প্রিন্টার চলবে?

AP মোডে ডিভাইসগুলো প্রধান রাউটারের একই নেটওয়ার্কে থাকে। তাই ঘরের শেয়ার সাধারণত দেখা যায়।

তার না টানা গেলে বিকল্প কী?

তার ছাড়া সংযোগ মডেলভেদে আলাদা এবং গতি কমে। এ ক্ষেত্রে মেশ বা পাওয়ারলাইন নিয়ে ভাবুন, আর মডেলের ম্যানুয়াল দেখুন।