সকালে স্পিড টেস্টে 48 Mbps, রাতে 19। ISP-কে ফোন করার আগে একটু থামুন, কারণ মাপার পদ্ধতিতে সামান্য ভুল থাকলেও সংখ্যা অর্ধেকে নেমে যেতে পারে। একটা ঠিক নিয়মে মাপলে আপনি ISP-র সামনে গোছানো সংখ্যা নিয়ে কথা বলতে পারবেন। এই লেখা সেই নিয়ম নিয়ে।

লাইনের গতি মাপা আর Wi-Fi ধীর কেন, তা বোঝা আলাদা কাজ। পুরো তালিকা চাইলে বাসার Wi-Fi ধীর হলে করণীয় দেখুন। এখানে শুধু একটি কাজ: সংখ্যাটা যতটা সম্ভব সৎভাবে বের করা।

কেন একই লাইনে আলাদা সংখ্যা আসে

প্রথমে একটা সহজ সত্য মেনে নেওয়া দরকার: স্পিড টেস্ট ISP-র সঙ্গে আপনার চুক্তির সরাসরি মাপকাঠি নয়, এটি এক মুহূর্তের একটি ছবি।

স্পিড টেস্ট একটা পথের গতি মাপে: আপনার ডিভাইস থেকে রাউটার, রাউটার থেকে ISP, তারপর সেই সার্ভার পর্যন্ত। এর মধ্যে সবচেয়ে ধীর অংশ ফলাফল ঠিক করে। TP-Link-এর সাপোর্ট লেখা বলছে, পথের প্রতিটি অংশ, অর্থাৎ ISP, মডেম, গেটওয়ে, সুইচ আর কম্পিউটার, সর্বোচ্চ সমর্থিত গতিতে চলছে কি না দেখে নিতে হয়। একটি অংশ 100 Mbps হলে তার ওপরে আর যাবে না।

উদাহরণ দিই। আপনার প্ল্যান 200 Mbps। রাউটার ঠিক, কিন্তু ল্যাপটপের তারের পোর্ট বা মাঝের সুইচ 100 Mbps। তারে মেপে 94 Mbps-এর কাছাকাছি পেলেন। ISP-র দোষ নয়, দোষ আপনার ঘরের পোর্টের। এই কারণে সংখ্যা পড়ার আগে পথের দুর্বল জায়গা খুঁজে নিতে হয়।

পথের দুর্বল অংশ খুঁজে নিন

Windows-এ তারে যুক্ত থাকা অবস্থায় নেটওয়ার্ক অ্যাডাপ্টারের স্ট্যাটাস খুললে লিঙ্কের গতি দেখা যায়, যেমন 100 Mbps বা 1000 Mbps (Gigabit)। মেনুর নাম সংস্করণভেদে আলাদা হতে পারে, তবে অ্যাডাপ্টারের Status বা Properties-এ Speed লাইনটি খুঁজুন। সেখানে 100 Mbps দেখালে আপনার প্ল্যান যত বড়ই হোক, তারে তার বেশি আসবে না। সমাধান হতে পারে তার বদলানো, অন্য পোর্টে লাগানো বা Gigabit পোর্টের ডিভাইস ব্যবহার। রাউটারের পোর্টের গতি কত, তা রাউটারের স্পেক পাতায় লেখা থাকে, কেনার আগে সেটা দেখে নেওয়া ভালো।

এই কারণেই ISP-র লাইন গিগাবিটের কাছাকাছি হলে রাউটারের পোর্টের গতিও দেখে নিতে হয়। রাউটারে 100 Mbps পোর্ট থাকলে তারের ওপর দিয়েও আপনি সেটুকুই পাবেন।

মাপার আগে প্রস্তুতি

  • বাসার অন্য ডিভাইসের ডাউনলোড, আপডেট, ভিডিও বন্ধ করুন বা সাময়িক বিচ্ছিন্ন করুন। পরীক্ষার সময় ব্যান্ডউইথ খায় এমন অ্যাপ বন্ধ রাখুন।
  • VPN বন্ধ করুন।
  • ল্যাপটপে ব্রাউজারের অন্য ট্যাব বন্ধ করুন।
  • পুরোনো ডিভাইস নয়, যেটি সবচেয়ে সক্ষম, সেটি দিয়ে মাপুন।

ধাপে ধাপে মাপার পদ্ধতি

  1. প্রথমে তার দিয়ে মাপুন। ল্যাপটপকে রাউটারের LAN পোর্টে তার দিয়ে যুক্ত করুন। Wi-Fi বন্ধ করুন, নইলে ল্যাপটপ কোন পথে যাচ্ছে বুঝবেন না।
  2. সবচেয়ে কাছের সার্ভার বাছুন। স্পিড টেস্ট অ্যাপে সার্ভারের তালিকা থাকে। বিভিন্ন নোডের অ্যালগরিদম আলাদা, তাই ফলে বড় পার্থক্য হতে পারে। কাছের নোড বেছে নিন।
  3. তিন-চারবার চালান। প্রতিবার কয়েক মিনিট বিরতি দিন। সংখ্যা এদিক-ওদিক হবে, মাঝামাঝিটা ধরুন।
  4. Wi-Fi-তে একই কাজ করুন। এবার তার খুলে একই ল্যাপটপ Wi-Fi-তে যুক্ত করুন। রাউটারের একই ঘরে, দুই-তিন মিটার দূরে দাঁড়িয়ে মাপুন।
  5. দূরের ঘরে আবার মাপুন। এই সংখ্যাটি বলে দেয় ঘরভেদে Wi-Fi কতটা কমে।
  6. দিনের আলাদা সময়ে আবার করুন। সকাল, দুপুর আর সন্ধ্যা। সংখ্যাগুলো খাতায় বা ফোনের নোটে লিখে রাখুন।

তার ও Wi-Fi দিয়ে একই ডিভাইসে মাপা দুটি স্পিড সংখ্যার তুলনার নমুনা ছক

দুটি সংখ্যার তুলনা কীভাবে পড়বেন

তারে ফলকাছের Wi-Fi ফলদূরের ঘরে Wi-Fi ফলকী বোঝায়
প্ল্যানের কাছাকাছিপ্ল্যানের কাছাকাছিঅনেক কমলাইন ঠিক, সিগন্যালের সমস্যা
প্ল্যানের কাছাকাছিতারের চেয়ে কমআরও কমWi-Fi ও জায়গা দেখুন
প্ল্যানের অনেক কমতারের মতোই কমআরও কমলাইন বা রাউটার, ISP-কে জানানোর মতো
প্ল্যানের কাছাকাছি, ধীর সময় নির্দিষ্টএকইএকইভিড়ের সময় লাইনে চাপ হতে পারে

এই ছক নিয়ম নয়, দিক দেখানোর হাতিয়ার। Wi-Fi-র ফল পরিবেশের ওপর নির্ভর করে, যেমন সিগন্যালের জোর, হস্তক্ষেপ আর ডিভাইসের ক্ষমতা। তাই Wi-Fi-র সংখ্যা তারের চেয়ে কম দেখলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। ভাবার বিষয় তখন, যখন একই ঘরে রাউটারের গায়ে দাঁড়িয়েও Wi-Fi-র সংখ্যা তারের অর্ধেকের কম আসে। তখন রাউটারের সেটিং, ব্যান্ড বা ডিভাইসের Wi-Fi কার্ড দেখার সময় এসেছে।

ফোনে মাপলেও একই নিয়ম খাটে। শুধু মনে রাখবেন, ফোন সাধারণত Wi-Fi-তে যুক্ত থাকে, তাই ফলাফল Wi-Fi-র পরিবেশের ওপর বেশি নির্ভর করবে। মোবাইল ডেটা বন্ধ রাখুন, নইলে ফোন কোন পথে মাপছে নিশ্চিত হবেন না। আর ফোন যদি 5 GHz নামের নেটওয়ার্কে থাকে, তবে একই ঘরে সেটি দ্রুত দেখাবে, কিন্তু দূরের ঘরে 2.4 GHz-এর চেয়ে কম হতে পারে। দুই ব্যান্ডে আলাদা করে মাপলে কোনটি আপনার ঘরের জন্য মানানসই, বোঝা যায়।

BDIX আর আন্তর্জাতিক সার্ভার

বাংলাদেশে কিছু ISP স্থানীয় ট্র্যাফিক (BDIX) আর বিদেশি সাইটের ট্র্যাফিক আলাদা পথে পাঠায়। ফলে একটি দেশি সার্ভারে মাপলে আর বিদেশি সার্ভারে মাপলে সংখ্যা আলাদা আসতে পারে। দুটোই মাপুন ও আলাদা করে লিখে রাখুন। ISP-র প্রতিশ্রুত গতি দেশি, নাকি বিদেশি সংযোগের জন্য, সেটা তারা বলতে পারবে।

এককেও ভুল হয়। অনেকের মনে হয় 50 Mbps লাইনে ডাউনলোড 50 MB প্রতি সেকেন্ড হবে। আসলে Mbps আর MBps আলাদা, আর পার্থক্য প্রায় আটগুণ। বিস্তারিত হিসাব আছে Mbps আর MBps নিয়ে লেখায়।

স্পিড টেস্টে সাধারণত তিনটি সংখ্যা দেখায়: ডাউনলোড, আপলোড আর পিং। ভিডিও দেখা বা সাইট খোলায় ডাউনলোড কাজে লাগে। ভিডিও কল, ক্লাউডে ছবি পাঠানো বা লাইভ স্ট্রিমে আপলোড বেশি দরকার। পিং কম হলে কল ও গেমে সাড়া দ্রুত মেলে। তিনটিই লিখে রাখুন, শুধু ডাউনলোডে আটকে থাকবেন না, কারণ কিছু প্ল্যানে আপলোডের সীমা ডাউনলোডের চেয়ে কম হতে পারে, আপনার প্ল্যানে কী আছে ISP-র কাছ থেকে জেনে নিন।

খাতায় যা যা লিখবেন

  • তারিখ ও সময়।
  • তারে নাকি Wi-Fi-তে, আর কোন ঘরে।
  • ডিভাইসের নাম এবং অ্যাডাপ্টারের লিঙ্ক গতি (100 নাকি 1000 Mbps)।
  • কোন সার্ভার, দেশি না বিদেশি।
  • ডাউনলোড ও আপলোডের সংখ্যা আলাদা করে।

সংখ্যা থাকলে ISP-র কর্মী বা টেকনিশিয়ান দ্রুত বোঝেন আটকাচ্ছে কোথায়।

সংখ্যা জমলে এরপর কী

তিন-চার দিনের সংখ্যা হাতে এলে ISP-র সঙ্গে কথা বলার আগে স্পিড নিয়ে অভিযোগের আগে যা যাচাই করবেন লেখাটি পড়ে নিন। তারে মাপা সংখ্যা, সময় আর আপনার পদ্ধতি লিখে রাখলে অভিযোগ গোছানো হয়। ঘরে সিগন্যালের সমস্যা বা রাউটার বদলের কথা ভাবলে UNU Technology-র 01340751013 নম্বরে জানাতে পারেন।

সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

স্পিড টেস্টে কোন সার্ভার বেছে নেব?

সবচেয়ে কাছের সার্ভার বা নোড। TP-Link-এর সাপোর্ট লেখায় আছে, বিভিন্ন নোডের অ্যালগরিদম আলাদা বলে ফলে বড় পার্থক্য হতে পারে।

কম্পিউটারের নেটওয়ার্ক কার্ডও কি গতি আটকাতে পারে?

হ্যাঁ। কার্ড বা তারের পোর্ট 100 Mbps হলে তার চেয়ে বেশি দেখাবে না। এর জন্য নেটওয়ার্কের প্রতিটি অংশের গতি দেখার কথা TP-Link-এর পাতায় আছে।

VPN চালু রেখে মাপা যায়?

না, বন্ধ রাখাই ভালো। VPN আলাদা পথে ঘোরে বলে আসল লাইনের গতি আড়াল হতে পারে।

মাপার জন্য কয়বার চালাতে হয়?

তিন-চারবার, আর আলাদা আলাদা সময়ে। মাঝামাঝি সংখ্যাটি লিখে রাখুন।