পাঁচটি জিনিস মিলিয়ে নিলে নতুন ISP-র লাইনে পুরোনো রাউটারই চলে: সংযোগের ধরন, ইউজারনেম-পাসওয়ার্ড, MAC address, DNS আর ONU বা মডেমের মডেল। বাকি Wi-Fi নাম, পাসওয়ার্ড বা গেস্ট নেটওয়ার্কের কিছুই বদলাতে হয় না। নিচে একে একে দেখানো হলো কোনটা কেন লাগে, আর কীভাবে বুঝবেন সব ঠিক হয়েছে।
শুরুর আগে নতুন ISP-র কাছ থেকে যা জেনে নেবেন
নতুন সংযোগ বসানোর সময়ই এই তথ্যগুলো লিখিত বা মেসেজে চেয়ে রাখুন। পরে ফোনে ধরতে সময় লাগে।
- সংযোগের ধরন: PPPoE, Dynamic IP (DHCP), নাকি Static IP। না বুঝলে PPPoE, Dynamic IP আর Static IP-র পার্থক্য লেখাটি দেখুন।
- PPPoE হলে ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড, Static হলে IP, subnet mask, gateway ও DNS।
- তারা কি রাউটারের MAC address নিজেদের তালিকায় বেঁধে রাখে?
- ONU বা মডেম কার, আর সেটি কি শুধু ব্রিজের মতো কাজ করবে নাকি নিজেও রাউটার হিসেবে চলবে।
পুরো সেটআপের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আছে নতুন ব্রডব্যান্ড লাইনে রাউটার সেটআপের লেখায়।
পুরোনো সেটিংয়ের ছবি তুলে রাখুন
কিছু বদলানোর আগে রাউটারের Internet বা WAN পাতার স্ক্রিনশট রাখুন। পরে কিছু গড়বড় হলে আগের অবস্থায় ফিরতে পারবেন। কাজ আটকে গেলে শেষ উপায় হিসেবে রিসেট আছে, তবে সেটা করার আগে কী লিখে রাখতে হয় তা ফ্যাক্টরি রিসেটের আগে ও পরের ধাপে আছে। প্রথমেই রিসেট করার দরকার সাধারণত পড়ে না।
পাঁচটি বদল, একটি একটি করে
নিচের ছক দেখুন। শেষ ঘরে লেখা সেটিংয়ের নাম ব্র্যান্ডভেদে ভিন্ন হতে পারে। TP-Link-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী WAN ও MAC Clone-এর সেটিং সাধারণত Advanced থেকে Network, তারপর Internet পাতায় থাকে। অন্য ব্র্যান্ডে নাম আলাদা হতে পারে, তাই লক্ষ্যটা মনে রাখুন।
| কী বদলাবেন | কেন | কীভাবে মেলাবেন |
|---|---|---|
| সংযোগের ধরন | ভুল ধরনে সেট থাকলে রাউটার IP পায় না | ISP-র বলা ধরন নির্বাচন করুন |
| ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড | প্রতি ISP-র তথ্য আলাদা | পুরোনোটি মুছে নতুনটি হুবহু বসান |
| MAC address | কিছু ISP নির্দিষ্ট MAC-এ ইন্টারনেট দেয় | ISP-কে নতুন MAC দিন, অথবা MAC Clone |
| DNS | IP এসেও সাইট না খুললে এটাই কারণ হতে পারে | স্বয়ংক্রিয় রাখুন, না হলে হাতে বসিয়ে দেখুন |
| ONU বা মডেম | নতুন ISP-র যন্ত্র আলাদা, পুরোনোটি আর কাজে লাগবে না | রাউটারের WAN পোর্ট নতুন যন্ত্রে লাগান |
MAC address নিয়ে একটু বিস্তারিত। কিছু ISP শুধু নির্দিষ্ট ডিভাইসের MAC address-কে ইন্টারনেট দেয়। তখন দুই রাস্তা: ISP-কে নতুন রাউটারের MAC (রাউটারের নিচের স্টিকারে থাকে) জানানো, অথবা রাউটারের MAC Clone সুবিধায় আগের ডিভাইসের MAC কপি করা। এটি তারে যুক্ত কম্পিউটার থেকে করতে হয়। সব ISP এই বাঁধন রাখে না, তাই আগে ISP-কেই জিজ্ঞেস করুন।

ধাপে ধাপে বদলের ক্রম
- পুরোনো ISP-র যন্ত্র বা কেবল খুলে নতুন যন্ত্রের কেবল রাউটারের WAN পোর্টে লাগান।
- কম্পিউটারকে LAN কেবলে রাউটারে যুক্ত করে অ্যাডমিন পাতায় ঢুকুন।
- WAN সংযোগের ধরন নতুন ISP-র কথামতো বদলান।
- PPPoE হলে নতুন ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড বসান। Save করুন।
- MAC বাঁধা থাকলে ISP-কে জানান বা MAC Clone করুন।
- রাউটার ও ONU বন্ধ করে ৩০ সেকেন্ড পর আগে ONU, পরে রাউটার চালু করুন।
- WAN স্ট্যাটাসে IP এসেছে কি না দেখুন, তারপর একটি সাইট খুলে পরীক্ষা করুন।
ONU যদি নিজেই রাউটার হয়
কিছু ISP যে ONU দেয় সেটিতে Wi-Fi ও রাউটারের কাজও থাকে। তখন আপনার রাউটারটি তার পেছনে বসালে দুটি যন্ত্র একসঙ্গে রাউটিং করে, যাকে বলে double NAT। এতে সাধারণ ব্রাউজিং চলে, কিন্তু কিছু গেম, ভিডিও কল বা রিমোট ক্যামেরা দেখার সংযোগে ঝামেলা হতে পারে। ISP-কে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন, ONU কি বিজ (bridge) মোডে দেওয়া যায়, নাকি আপনার রাউটারকে Dynamic IP-তে তার পেছনে চালানোই নিয়ম। উত্তর যা-ই হোক, লিখে রাখুন। পরে রাউটার বদল করলেও কাজে লাগবে।
একই ঘরে পুরোনো ISP-র ONU পড়ে থাকলে নতুন ISP-র লাইনের সঙ্গে সেটি লাগাবেন না। যন্ত্রগুলো একে অপরের সঙ্গে মেলে না, আর ফেরত দেওয়ার শর্ত পুরোনো ISP-র কাছ থেকে জেনে নিন।
Wi-Fi সেটিং না বদলানোই ভালো। রাউটারের Wi-Fi নাম ও পাসওয়ার্ড ISP বদলের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এগুলো যেমন আছে তেমন রাখলে ফোন, টিভি, প্রিন্টার ও স্মার্ট ডিভাইস নতুন করে যুক্ত করতে হয় না। শুধু ইন্টারনেট (WAN) অংশ বদলান। অনেকে সুযোগে রাউটার রিসেট করে ফেলেন, তখন সব ডিভাইসে আবার পাসওয়ার্ড দিতে হয়। রিসেট করবেনই যদি, আগে সব তথ্য লিখে রাখুন।
দুটি সাধারণ ভুল এড়ান। প্রথমত, নতুন ইউজারনেম বসানোর সময় পুরোনো পাসওয়ার্ড থেকে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, সংযোগের ধরন বদলে Save না চেপে পাতা ছেড়ে দেওয়া। দুটোই হলে রাউটার পুরোনো তথ্য নিয়েই চেষ্টা চালিয়ে যায়, আর আপনি ভাবেন নতুন লাইনেই সমস্যা। বদলের পর প্রতিটি পাতায় মান আবার খুলে দেখে নিন।
লাইনের গতি রাউটারের পোর্টের চেয়ে বেশি হলে
অনেকে ISP বদলান বেশি গতির আশায়। তখন দেখে নিন রাউটারের পোর্ট কত গতি সামলাতে পারে। যেমন TP-Link Archer C54-এর ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকের পাতা অনুযায়ী WAN ও LAN পোর্ট 10/100 Mbps, এবং তারে সংযোগের সর্বোচ্চ গতিও 100 Mbps। তাই নতুন লাইন যদি 100 Mbps-এর বেশি হয়, তারে যুক্ত ডিভাইস এই সীমা ছাড়াতে পারবে না। এই রাউটারে 5 GHz Wi-Fi-র সর্বোচ্চ গতি লেখা 867 Mbps, কিন্তু সেটি তাত্ত্বিক হার। বাস্তবে কম পাবেন। আপনার লাইনের গতি আর রাউটারের পোর্ট মিলছে কি না কেনার আগে বা বদলের আগে দেখে নিন।
সব ঠিক হয়েছে কীভাবে বুঝবেন
রাউটারের WAN স্ট্যাটাসে বৈধ IP দেখা গেলে এবং কম্পিউটার-ফোন দুটোতেই সাইট খুললে সংযোগ ঠিক। IP যদি 0.0.0.0 দেখায়, আগে মডেমে কম্পিউটার সরাসরি লাগিয়ে পরীক্ষা করুন। সেখানেও না হলে ISP-র দিকের সমস্যা। IP এসেছে অথচ সাইট খোলে না, তখন DNS হাতে বসিয়ে দেখুন।
পরের দুই-এক দিন লক্ষ করুন সংযোগ মাঝে মাঝে ছিঁড়ে যাচ্ছে কি না। একবার ঠিকঠাক চলার পর এখনকার সেটিংয়ের নতুন স্ক্রিনশট তুলে রাখুন এবং পুরোনো ISP-র তথ্য মুছে ফেলার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে নতুন লাইন স্থির চলছে। কোনো সমস্যা হলে ISP-কে জানানোর সময় বলুন কোন ধাপ পর্যন্ত নিজে দেখেছেন। এতে তারা আগের প্রশ্নগুলো আর করবে না, কাজও দ্রুত এগোবে। সংযোগ আটকে গেলে সংযোগের ধরনের লেখাটি আবার দেখে নিতে পারেন।
নতুন লাইনের গতির জন্য কোন রাউটারের পোর্ট যথেষ্ট, তা জানতে UNU Technology-র 01340751013 নম্বরে কথা বলতে পারেন।
সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
নতুন ISP নিলে কি নতুন রাউটার কিনতে হয়?
সাধারণত না। রাউটারের WAN পোর্ট ও সংযোগের ধরন নতুন লাইনের সঙ্গে মিললে পুরোনো রাউটারই চলে। শুধু লাইনের গতি রাউটারের পোর্টের সীমা ছাড়িয়ে গেলে বদলের কথা ভাবতে হয়।
পুরোনো ISP-র PPPoE তথ্য কি নতুন লাইনে কাজ করবে?
না। প্রতিটি ISP নিজের ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দেয়। পুরোনোটি মুছে নতুনটি বসাতে হবে।
ONU কি নিজে বদলাতে পারি?
ONU সাধারণত ISP-র দেওয়া বা তাদের নেটওয়ার্কের সঙ্গে মেলানো যন্ত্র। বদলানোর আগে নতুন ISP-কে জিজ্ঞেস করুন কোন মডেল চলবে।
সব ঠিক করার পর নেট আসছে না, প্রথম কী দেখব?
রাউটারের WAN স্ট্যাটাসে IP এসেছে কি না দেখুন। IP না এলে কেবল, ONU ও ক্রেডেনশিয়াল, IP এলে DNS দেখুন।
