কারেন্ট গেল। মিনি UPS-এর লাইট জ্বলল, আর পরের সেকেন্ডে রাউটারের সব লাইট নিভে গেল। অথবা UPS লাগানোর পর রাউটার একবার চালু হয়ে আবার রিস্টার্ট করতে লাগল। এমন হলে প্রায় সব ক্ষেত্রেই কারণ ছয়টির কোনো একটি, আর সেগুলো দেখা যায় যন্ত্র না খুলেই। সহজ পরীক্ষা থেকে কঠিনে যাব, একটি নির্ণয় ছকও দেব। UPS কেনার আগের পরিকল্পনা চাইলে লোডশেডিংয়ে নেট চালু রাখার সব উপায় লেখায় আছে।
প্রথম পরীক্ষা: কারেন্ট থাকা অবস্থায় রাউটার চলছে তো
লোডশেডিংয়ের অপেক্ষা না করে এখনই পরীক্ষা করা যায়। রাউটারের অ্যাডাপ্টার খুলে রাউটারকে UPS-এর আউটপুটে লাগান, আর UPS-এর চার্জার ঘরের কারেন্টেই থাকুক। রাউটার ঠিক চালু হয় কি না দেখুন। এখানেই বন্ধ হলে সমস্যা ব্যাটারির আগে আউটপুট, ভোল্ট বা কেবলে। চললে এবার সাবধানে UPS-এর চার্জার প্লাগ খুলে দেখুন রাউটার চালু থাকে কি না। এতে লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতি নকল করা যায়, কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার প্লাগ লাগান।
পরীক্ষার আগে রাউটার ও UPS-এর লেবেলের ছবি তুলে রাখুন। ভোল্ট, অ্যাম্পিয়ার আর কনেক্টরের দিক ছবিতে থাকলে পরে সাপোর্টে বা বিক্রেতাকে দেখাতে সুবিধা হয়। পরীক্ষার সময় হাত ভেজা রাখবেন না, আর যন্ত্রের ভেতরে কিছু ঢোকাবেন না।
| লক্ষণ | সম্ভাব্য কারণ | কী দেখবেন |
|---|---|---|
| রাউটার একেবারেই চালু হয় না | UPS চালু নয়, ভুল ভোল্ট, কেবল | কারণ ১, ২, ৩ |
| কারেন্ট যেতেই বন্ধ | ব্যাটারি ফাঁকা, কেবল ঢিলা, বন্ধ UPS | কারণ ১, ৪, ৫ |
| চালু হয়, তারপর বারবার রিস্টার্ট | ওভারলোড, দুর্বল কেবল | কারণ ৪, ৫ |
| অল্প সময় চলে বন্ধ হয়ে যায় | ব্যাটারি কম চার্জ বা পুরোনো | কারণ ২, ৬ |
ছকের কারণগুলো একে একে বাদ দিন, লাফিয়ে ধরবেন না। প্রতিবার একটি জিনিস বদলে আবার পরীক্ষা করলে বোঝা যায় কোনটি কাজ করল। একসঙ্গে তিনটি বদলালে কিসে ঠিক হলো তা বোঝার উপায় থাকে না।
কারণ ১: UPS আসলে চালু নয়
সবচেয়ে সাধারণ ও সহজ কারণ। কিছু মিনি UPS প্লাগে লাগালেই নিজে চালু হয়, কিছুতে বোতাম চাপতে হয়। UNU-র স্পেক অনুযায়ী WGP Mini UPS-এ এক ক্লিকে চালু ও দুবার ক্লিকে বন্ধ করার সুইচ আছে, আর Solitine AH-এর বিবরণে প্লাগে লাগালে নিজে চালু হওয়ার কথা আছে। ভুল করে দুবার ক্লিক পড়লে বা কেউ বোতামে চাপ দিলে UPS বন্ধ হয়ে যেতে পারে। চার্জের লাইট দেখে বুঝুন UPS আউটপুট দিচ্ছে কি না। ম্যানুয়ালে আপনার মডেলের সঠিক পদ্ধতি দেখে নিন।
কারণ ২: ব্যাটারি খালি বা কম
নতুন UPS পুরো চার্জ না করে ব্যবহার করলে বা আগের লোডশেডিংয়ে ফুরিয়ে গেলে পরের বার সাড়া দেবে না। ম্যানুয়ালে যত সময় চার্জের কথা লেখা, ততক্ষণ ঘরের কারেন্টে চার্জ দিন, লাইট দেখে বুঝুন পূর্ণ হয়েছে কি না। লোডশেডিং বারবার ঘন ঘন হলে ব্যাটারি পূর্ণ হওয়ার সময়ই পায় না।
কারণ ৩: ভোল্ট মেলেনি
UPS-এর আউটপুট ভোল্ট রাউটারের লেবেলের ভোল্টের সমান হওয়া চাই। রাউটারের লেবেলে 9 V লেখা থাকলে 12 V আউটপুটে তা অতিরিক্ত ভোল্ট পায়, ক্ষতির ঝুঁকি আছে। উল্টো দিকে, কম ভোল্টে যন্ত্র চালু না-ও হতে পারে বা বারবার রিস্টার্ট করতে পারে। Solitine AH-এ স্পেক অনুযায়ী 5V, 9V, 12V, 15V, 24V নির্বাচনযোগ্য, তাই সেটিং ঠিক জায়গায় আছে কি না আগে দেখুন। লেবেল পড়ে ভোল্ট মেলানোর পুরো ক্রম ভোল্ট মেলানোর আলাদা লেখায় আছে।

কারণ ৪: যন্ত্র UPS-এর চেয়ে বেশি টানছে
দুই বা তার বেশি যন্ত্র এক UPS-এ লাগালে মোট ওয়াট বাড়ে। ভোল্ট × অ্যাম্পিয়ার দিয়ে প্রতিটি যন্ত্রের ওয়াট বের করে যোগ করুন। উদাহরণসহ হিসাব নেট চালু রাখার উপায়ের লেখায় আছে। মোট সংখ্যা UPS-এর সর্বোচ্চ ওয়াটের (Solitine AH-এ 36 W, WGP-র পাতায় নেই) নিচে থাকা চাই। প্রতিটি আউটপুটের আলাদা অ্যাম্পিয়ার-সীমাও আছে, যেমন Solitine-এর 9V/12V পোর্টে 2 A লেখা। সীমা পেরোলে বা চালু হওয়ার মুহূর্তে যন্ত্র কিছুটা বেশি টানলে ওভারলোড সুরক্ষা চালু হয়ে আউটপুট বন্ধ হতে পারে। স্পেক অনুযায়ী দুই মডেলেই ওভারকারেন্ট বা ওভারলোড ও শর্ট-সার্কিট সুরক্ষা আছে।
কারণ ৫: কেবল, কনেক্টর বা পোলারিটি
লম্বা, সরু বা পুরোনো কেবলে ভোল্ট কমে যেতে পারে, ফলে যন্ত্র কম ভোল্ট পায় আর রিস্টার্ট করে। ঢিলা কনেক্টর নাড়া খেলেই সংযোগ ছিঁড়ে যায়। কনেক্টরের মাপ ঠিক না হলে সংযোগ আলগা থাকে। আর পোলারিটি (ধনাত্মক ও ঋণাত্মক দিক) উল্টো হলে যন্ত্র নষ্ট হতে পারে, তাই কেবলের দিকচিহ্ন রাউটারের লেবেলের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। সম্ভব হলে ছোট ও ভালো কেবল ব্যবহার করুন, আর কেবল বদলের সময়ও ভোল্ট ও দিক মিলিয়ে নিন। নিজে কেবল কেটে জুড়বেন না।
কারণ ৬: ব্যাটারি পুরোনো বা UPS-এ গোলমাল
উপরের পাঁচটি ঠিক থাকলে আর UPS অল্প সময় চলে বন্ধ হলে ব্যাটারি ক্ষয় হয়েছে বলে সন্দেহ করা যায়। লিথিয়াম ব্যাটারির ধারণক্ষমতা সময়ের সঙ্গে কমে। এই ক্ষেত্রে ঘরে কিছু করার নেই, UPS খুলে দেখার চেষ্টাও চলবে না। ফুলে গেলে, অতিরিক্ত গরম হলে বা অদ্ভুত গন্ধ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করুন।
তবু ঠিক না হলে
একটি ছোট নোট রাখুন: কখন কী হলো, UPS-এর কোন লাইট জ্বলছিল, কত সময় চলল। এই তথ্য বিক্রেতার কাছে গেলে দ্রুত দিকনির্দেশ পাবেন। সমস্যা শুধু রাতে বা নির্দিষ্ট সময়ে হলে সেটাও লিখে রাখুন।
ঠিক হয়েছে কি না নিশ্চিত হতে এই তালিকা ধরে এগোন:
- কারেন্ট থাকা অবস্থায় রাউটার UPS-এর আউটপুটে চালু হচ্ছে কি না।
- UPS-এর চার্জার খুলে দিলেও রাউটার চলছে কি না।
- আধ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাটারিতে চলার পর রাউটার ও ONU দুটোই ঠিক আছে কি না।
- চার্জার আবার লাগানোর পর রাউটার বন্ধ না হয়ে চলতে থাকছে কি না।
ছয়টি কারণ বাদ দেওয়ার পরও সমস্যা থাকলে রাউটারটি নিজেই কারেন্টে বারবার রিস্টার্ট করছে কি না আলাদা করে দেখুন। সেই কারণগুলো রাউটার বারবার হ্যাং বা রিস্টার্ট হলে লেখায় আছে। আর রাউটার চালু থেকেও নেট না থাকলে ONU কি UPS-এ আছে দেখুন, কারণ ONU বন্ধ থাকলে রাউটারের আলো দেখে কোনো লাভ নেই। ছয় কারণ বাদ দিয়েও রাউটার বন্ধ হলে UPS-এর মডেল আর রাউটারের লেবেলের ছবি নিয়ে UNU Technology-র 01340751013 নম্বরে কথা বলতে পারেন।
সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
লোডশেডিংয়ের মুহূর্তে এক সেকেন্ড বন্ধ হয়ে চালু হলে কী বুঝব?
প্রায়ই মানে UPS তৎক্ষণাৎ ব্যাটারিতে যেতে পারছে না, বা কেবল ঢিলা। WGP-র বিবরণে শূন্য ট্রান্সফার সময়ের কথা আছে, তবু সংযোগ ও ভোল্ট আগে দেখুন।
রাউটার বন্ধ হয় না, কিন্তু নেট চলে যায়। এটা কি UPS-এর দোষ?
না-ও হতে পারে। ONU বা পাড়ার যন্ত্র কারেন্ট ছাড়া বন্ধ হয়ে থাকতে পারে। ONU কি UPS-এ আছে দেখুন।
UPS থেকে গরম বা গন্ধ আসছে, কী করব?
সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করে খুলে রাখুন, খোলার চেষ্টা করবেন না। ম্যানুয়াল দেখুন বা বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলুন।
এই সমস্যার সমাধান কি রাউটার বদলে হবে?
আগে ধাপগুলো দেখুন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমস্যা ভোল্ট, কেবল বা ওয়াটে, রাউটারে নয়।
