Awei Y669 31W স্পিকারের বাক্সে বড় করে লেখা থাকে "31W"। দোকানে গিয়ে বেশিরভাগ ক্রেতা ওই সংখ্যাটাই আগে দেখেন। বাংলাদেশে এই ব্লুটুথ স্পিকার খোঁজার সময় আপনিও সম্ভবত তা-ই করছেন। এই লেখায় দেখা যাক, ওই সংখ্যা আসলে কতটা কাজের, আর ঘরের জন্য স্পিকার বাছতে আর কী কী দেখা উচিত।
ওয়াট দিয়েই কি সাউন্ড বিচার করা যায়?
উত্তর: না। ওয়াট বলে স্পিকার কত শক্তি টানতে পারে, কিন্তু আওয়াজ ভালো হবে কি না তা বলে না। একই ওয়াটের দুটো স্পিকার একেবারে ভিন্ন শোনাতে পারে। কারণ ড্রাইভারের আকার, ভেতরের বক্সের গড়ন আর সাউন্ড টিউনিং, সবই ফল বদলে দেয়।
আরেকটা ব্যাপার, ওয়াটের সংখ্যা প্রায়ই "পিক" ধরে লেখা হয়, সব সময় চলার মতো "RMS" ধরে নয়। এই স্পিকারের সাইটের স্পেকেই তার একটা উদাহরণ আছে: Speaker Power লেখা RMS 5W x 2 + 15W x 1। সাধারণ যোগ করলে দাঁড়ায় ২৫ ওয়াট, অথচ নাম আর পাওয়ার লাইনে ৩১ ওয়াট। দুটো ভিন্ন পদ্ধতির হিসাব, তাই এই ফারাক খুব অস্বাভাবিক নয়। শিক্ষা একটাই, ওয়াট দেখে কেনার আগে বন্ধনীর ভেতরের লেখাটাও পড়ুন।
ঘরের জন্য স্পিকার বাছার চারটি মাপকাঠি
১. ওয়াট
শোবার ঘর বা পড়ার টেবিলের জন্য মাঝারি ওয়াটই যথেষ্ট। খুব বেশি ওয়াটের স্পিকার কিনে নিচু ভলিউমে চালালে বাড়তি ওয়াটের সুবিধা প্রায় পান না।
২. ব্যাটারি
লোডশেডিংয়ের শহরে ব্যাটারি জরুরি। তবে ব্যাটারির mAh আর ভোল্ট একসঙ্গে দেখতে হয়। এখানে ২২০০mAh, ৭.৪V। সাইটের স্পেকে ১২ ঘণ্টা চলার কথা আছে, আর চার্জ হতে প্রায় ৪ ঘণ্টা লাগে। মনে রাখবেন, পুরো ভলিউমে চালালে সময় কমবে।
৩. সাইজ ও ওজন
বড় স্পিকার সাধারণত বেশি বেস দেয়, কিন্তু বহন করা কষ্টের। ঘরে এক জায়গায় রাখলে সমস্যা নেই, তবে ব্যাগে নিয়ে ঘুরলে ভেবে দেখুন।
৪. কানেকশন
Bluetooth ছাড়াও AUX পোর্ট থাকলে পুরোনো ডিভাইস, টিভি বা ল্যাপটপের সঙ্গে তার দিয়ে জুড়তে পারেন। ব্লুটুথ কেটে যাওয়ার ঝামেলাও তাতে এড়ানো যায়।
Awei Y669-এর স্পেক (সাইট অনুযায়ী)
| বিষয় | স্পেক |
|---|---|
| পাওয়ার | 31W (RMS 5W x 2 + 15W x 1) |
| Frequency response | 100Hz - 20KHz |
| Subwoofer | আছে (HIFI sound effect বলে উল্লেখ) |
| Bluetooth | V5.0 + EDR, ৮-১২ মিটার |
| Play mode | Bluetooth / AUX |
| ব্যাটারি | 2200mAh / 7.4V |
| Working time | ১২ ঘণ্টা (দাবি) |
| চার্জিং | 5V / 1A, প্রায় ৪ ঘণ্টা, Type-C |
লক্ষ করুন, টেবিলের তথ্যগুলো কাগজে-কলমের স্পেক। বাস্তবে আওয়াজ কেমন লাগবে, তা নির্ভর করবে আপনার ঘর, দেয়াল আর নিজের পছন্দের ওপর।
ফ্ল্যাটে বসালে কোথায় রাখবেন
ঢাকার বেশিরভাগ ফ্ল্যাটেই কংক্রিটের দেয়াল। স্পিকার দেয়ালের গা ঘেঁষে রাখলে বেস ফুলে গিয়ে ঘোলাটে শোনাতে পারে। দেয়াল থেকে এক-দুই হাত দূরে, কানের উচ্চতার কাছাকাছি রাখলে স্পষ্টতা বাড়ে। মেঝেতে রাখলে আওয়াজ মেঝে বেয়ে নিচের ফ্ল্যাটেও যায়; ভাড়া থাকলে এটাও মাথায় রাখুন।
ব্লুটুথের দূরত্ব ৮-১২ মিটার লেখা থাকলেও মাঝখানে একটা কংক্রিটের দেয়াল পড়লে সিগন্যাল দুর্বল হতে পারে। ফোন আর স্পিকার একই ঘরে রাখাই ভালো।
দাম আর দরকারের হিসাব মেলাবেন যেভাবে
স্পিকার কিনতে গিয়ে অনেকে দুটো ভুল করেন। হয় সবচেয়ে বড় সংখ্যাটা দেখে বেশি টাকা ঢেলে দেন, নয়তো একেবারে ছোট ডিভাইস কিনে ভাবেন পরে আর কিছু লাগবে না। মাঝামাঝি পথ হলো আগে ঠিক করে নেওয়া: কোথায় বাজবে, কতজন শুনবে, আর কতক্ষণ।
ধরুন ঘরে একা বা দুজনে শুনবেন। তাহলে মাঝারি ক্ষমতাই যথেষ্ট। আর বসার ঘরে পরিবারের সবাই মিলে শুনলে, বা বারান্দাতেও ব্যবহার করলে, একটু বড় ড্রাইভার আর আলাদা সাবউফারওয়ালা স্পিকার সুবিধা দেয়। এই মডেলের স্পেকে সাবউফারের উল্লেখ আছে, যা বেস পছন্দ করা মানুষের জন্য একটা ভালো দিক।
তবে সাবউফার থাকা মানেই বেস গভীর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। দোকানে সম্ভব হলে নিজের ফোনের পছন্দের গান বাজিয়ে শুনে নিন। সেটাই সবচেয়ে ভরসার যাচাই।
কেনার পর প্রথম দিনের সেটআপ
- বক্স খুলে স্পিকার, ক্যাবল আর ম্যানুয়াল ঠিকঠাক আছে কি না মিলিয়ে নিন।
- প্রথমবার পুরো চার্জ দিন। সাইটের স্পেক অনুযায়ী এতে প্রায় ৪ ঘণ্টা লাগার কথা।
- ফোনের ব্লুটুথ অন করে স্পিকার খুঁজে জুড়ে নিন, তারপর কম ভলিউমে শুরু করুন।
- AUX তার দিয়েও একবার বাজিয়ে দেখুন, যেন পরে দরকারে ঝামেলা না হয়।
- ব্যাটারি একেবারে শূন্য হওয়ার আগেই চার্জে বসানোর অভ্যাস করুন। এতে ব্যাটারি ভালো থাকে বলে সাধারণভাবে মনে করা হয়।
বক্স ও কাগজপত্র রেখে দেওয়া ভালো অভ্যাস, কারণ ওয়ারেন্টির দাবিতে লাগতে পারে; তবে প্রতিটি ওয়ারেন্টির শর্ত আলাদা।
ছোট ভুল যেগুলো সাউন্ড নষ্ট করে
অনেক সময় স্পিকার খারাপ নয়, সেটিং ঠিক থাকে না। ফোনের ভলিউম একদম কমিয়ে স্পিকারের ভলিউম বাড়ালে গান পাতলা শোনায়। বরং ফোনের ভলিউম মোটামুটি বেশি রেখে স্পিকারের ভলিউম দিয়ে ঠিক করুন। ফোনের ইকুয়ালাইজার বেশি বাড়ালেও বেস ফেটে যেতে পারে, তাই আগে ডিফল্টে শুনুন।
কম বিটরেটের গান বা ইউটিউবের নিম্নমানের ভিডিও বড় স্পিকারে দুর্বলতা আরও বেশি ধরা পড়ে। স্পিকার ভালো হলে সোর্সও ভালো থাকা দরকার।
কার জন্য / কার জন্য নয়
কার জন্য
- যাঁরা বাজেটের মধ্যে ঘরে বা বারান্দায় গান শোনার জন্য একটা পোর্টেবল স্পিকার চান।
- যাঁদের লোডশেডিংয়ের সময় ব্যাটারিতে চলা স্পিকার দরকার।
- যাঁরা টিভি বা ল্যাপটপে AUX তারেও বাজাতে চান।
কার জন্য নয়
- যাঁরা বিছানায় শুয়ে বা অফিসে নিচু ভলিউমে শুধু গান শোনেন। ছোট স্পিকারেই কাজ হবে।
- যাঁরা স্টুডিও-মানের সাউন্ড আশা করেন। ওয়াট দেখে সেই আশা করা ঠিক নয়।
- যাঁরা বৃষ্টির মধ্যে বাইরে ব্যবহার করতে চান। সাইটের স্পেকে waterproof রেটিং নেই, তাই এ বিষয়ে ধরে নেবেন না যে এটি পানি সহ্য করবে।

Awei Y669 31W কোথায় পাবেন
পণ্যের পাতা: Awei Y669 31W Portable Bluetooth Speaker। লেখার সময় (নভেম্বর ২০২৬) UNU Technology-তে দাম ৳৩,৪০০; অর্ডারের আগে পণ্যের পাতায় বর্তমান দাম দেখে নিন। ওয়ারেন্টির শর্ত অর্ডারের আগে জেনে নিন।
আরও পড়ুন
- বৃষ্টি বা বাইরের ব্যবহারে ভরসা চাইলে Awei Y1000-এর IPX7 রেটিং নিয়ে লেখা পড়ুন।
- আড্ডার জন্য আরও বেশি আওয়াজ লাগলে দেখুন Awei Y887 Pro ৪০ ওয়াটের রিভিউ।
- কানে দিয়ে শোনাই বেশি পছন্দ হলে কম দামি ANC ইয়ারবাডের বাস্তব প্রত্যাশা নিয়ে লেখাটি দেখতে পারেন।
অর্ডার ও যোগাযোগ
দ্বিধা থাকলে WhatsApp বা কল করুন 01340751013 নম্বরে। শোরুম: পুরানা পল্টন, ঢাকা।
সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
স্পিকারের ওয়াট বেশি হলে কি সাউন্ডও ভালো হয়?
না, সবসময় নয়। ড্রাইভারের মান, বক্সের গঠন ও টিউনিং-ও সাউন্ড ঠিক করে। ওয়াট শুধু শক্তির একটা ইঙ্গিত।
Awei Y669 কত ঘণ্টা চলে?
সাইটের স্পেকে Working Time 12 hours লেখা আছে। এটা দাবি করা সময়; ভলিউম বাড়ালে কমে যেতে পারে।
এটা কি AUX তারে ব্যবহার করা যায়?
স্পেক অনুযায়ী Play Mode হলো Bluetooth ও AUX দুটোই।
কত দূর থেকে ব্লুটুথ কানেক্ট থাকে?
স্পেকে Bluetooth Transmission Distance 8 থেকে 12 মিটার লেখা। মাঝখানে দেয়াল থাকলে দূরত্ব কমে যেতে পারে।
